দেশজুড়ে জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় ব্যাপক লোডশেডিং চলছে। এরই মধ্যে বিদ্যুৎ স্থাপনাগুলোতে নাশকতার আশঙ্কা প্রকাশ করে কুষ্টিয়া ও নীলফামারীতে পুলিশের কাছে নিরাপত্তা চেয়ে চিঠি দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ এসব স্থাপনে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে নিরাপত্তা জোরদারের আবেদন জানানো হয়েছে।

কুষ্টিয়ায় ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো) এবং পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন সব স্থাপনা ও কার্যালয়ে নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য পুলিশ সুপারের কাছে পৃথক দুটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। গত সোম ও মঙ্গলবার এসব চিঠি দেওয়া হয়, যার অনুলিপি জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বল্পতার কারণে কুষ্টিয়ার আওতাধীন এলাকায় ব্যাপক লোডশেডিং করতে হচ্ছে, ফলে জনমনে অসন্তোষ বিরাজ করছে এবং যে-কোনো সময় নাশকতা ঘটার শঙ্কা রয়েছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখতে ওজোপাডিকোর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন ও নজরদারি জোরদার করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি রয়েছে এবং গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে সমিতির আওতাধীন এলাকাতেও বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটছে। লোডশেডিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্পকারখানা, কৃষিকাজ এবং অফিস-আদালতের কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুষ্টিয়ার হরিপুর এলাকায় বিদ্যুৎ অফিস ও সাবস্টেশনে ঘেরাও বা হামলার উসকানিমূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় দ্রুত আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ারও আবেদন জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ বলেন, দুটি চিঠিই তারা দেখেছেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ বিষয়ে অবগত হয়েছে। পুলিশের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে এবং এসপি ঢাকা থেকে ফিরে এলে প্রয়োজনীয় অন্যান্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অপরদিকে, নীলফামারী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি এবং নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেডের (নেসকো) আওতাধীন কার্যালয় ও বিদ্যুৎ বিতরণ উপকেন্দ্রে নিরাপত্তা চেয়ে থানায় চিঠি দেওয়া হয়েছে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির চিঠিতে বলা হয়েছে, জাতীয় গ্রিডে উৎপাদন ও সরবরাহের ঘাটতির কারণে বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে গ্রাহকদের দুর্ভোগ বেড়েছে এবং জনমনে অসন্তোষ সৃষ্টি হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে সব স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদার করা প্রয়োজন বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। নীলফামারী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক খুরশীদ আলম বলেন, কেপিআই প্রতিষ্ঠান হিসেবে এটি একটি রুটিন কাজ এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

সৈয়দপুর বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আলিমুল ইসলাম সেলিম স্বাক্ষরিত আরেকটি চিঠি সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক জ্বালানি সংকটের কারণে চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় সৈয়দপুরেও লোডশেডিং হচ্ছে, যা নিয়ে গ্রাহক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক সশস্ত্র পুলিশ মোতায়েনের অনুরোধ জানানো হয়েছে। ডোমার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাবিবুল্লাহ জানান, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে সব স্থাপনায় পুলিশ মোতায়েন ও টহল অব্যাহত আছে। সৈয়দপুর থানার ওসি রেজাউল করিম বলেন, নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।