রাজধানীর মধ্য বাড্ডায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো এক নারী পরিচ্ছন্নতাকর্মীর মরদেহ দেখতে গিয়ে শুক্রবার সকালে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান। এ সময় তিনি ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও অদক্ষ চালকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহনের ঘোষণা দেন।
প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেন, রাস্তায় চলা ফিটনেসবিহীন যানবাহন এবং যাদের কোনো লাইসেন্স নেই অথবা যারা চালানোর ক্ষেত্রে দক্ষ নন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সাথে মিলে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, অদক্ষ চালকের দরুণ এ ধরনের হৃদয়বিদারক কোনো ঘটনা ভবিষ্যতে আর যাতে না ঘটে, সেটি নিশ্চিত করতেই প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেয়া হবে। একইসঙ্গে তিনি পথচারী ও সড়ক ব্যবহারকারীদের আরও বেশি সচেতন হওয়ার অনুরোধ জানান।
ডিএনসিসির প্রশাসক জোর দিয়ে বলেন, 'পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা দিন ও রাত কঠোর পরিশ্রম করে শহরবাসীকে সেবা দিয়ে চলেছেন। তাদের জন্য একটি নিরাপদ ও নির্ঝঞ্ঝাট কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করার দায়িত্ব সবার।' তিনি চালকদের উদ্দেশ্য করে আরও বলেন, দ্রুত গতিতে গাড়ি চালিয়ে কোনো দুর্ঘটনা না ঘাটানো উচিৎ।
নিহত পরিচ্ছন্নতাকর্মী শেফালী বেগমের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করে প্রশাসক জানান, সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে পরিবারকে চার লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা ও এক বছরের সমপরিমাণ বেতন প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে। সেই সাথে তিনি পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সবসময় পাশে থাকার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন।
এক সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, 'ডিএনসিসির কোন গাড়ি যদি কোনও অদক্ষ চালক বা হেলপার চালিয়ে থাকেন, তাহলে তদন্তের মাধ্যমে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে আমার জানা মতে, আমাদের সংস্থার কোনো গাড়ি কোনো হেলপার বা অদক্ষ চালক চালান না।'
সকালে দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর নিহতের বাসায় যান স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহ আলম, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মজুর এবং ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর মো. হুমায়ুন কবিরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।




