রাজধানীর পান্থপথে দৃকপাঠ ভবনে শুক্রবার সন্ধ্যায় এক আয়োজনের মধ্য দিয়ে ‘বাংলাদেশ প্রেস ফটো প্রতিযোগিতা (বিপিপিসি) ২০২৬’-এর পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। দৃক পিকচার লাইব্রেরির উদ্যোগে পঞ্চমবারের মতো অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় ‘পিকচার অব দ ইয়ার’ তথা বর্ষসেরা আলোকচিত্রীর স্বীকৃতি পান দৈনিক প্রথম আলোর ডেপুটি হেড অব ফটোগ্রাফি সাজিদ হোসেন। সেই সঙ্গে এ বছর প্রদর্শনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানেরও সূচনা ঘটে।
আয়োজক সূত্রমতে, এ প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে নিয়োজিত ২০২ জন ফটোসাংবাদিক অংশ নেন। তাঁদের ক্যামেরায় ধরা পড়ে দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতি, প্রাণ-প্রকৃতির পাশাপাশি তথ্যচিত্র— এই ছয় ভিন্ন ক্যাটাগরির প্রায় ১৬০০টি স্থিরচিত্র। সেখান থেকে বাছাইকৃত ৩২টি ছবি নিয়ে চলমান প্রদর্শনীটি সাজানো হয়েছে।
বর্ষসেরা নির্বাচিত ছবির পেছনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে সাজিদ হোসেন বর্ণনা করেন, মিরপুরে এক রাসায়নিক কারখানার ভয়াবহ আগুন পাশেই অবস্থিত পোশাক কারখানায় ছড়িয়ে পড়েছিল। সেখানে আটকে পড়া নারী শ্রমিকদের মরদেহ উদ্ধারের সময় এক স্বজনের স্বামী ও বাবা জড়িয়ে ধরে কাঁদছিলেন এবং এক সেনাসদস্য তাদের কাছে নিখোঁজ ব্যক্তির ছবি দেখাচ্ছিলেন। সেই হৃদয়বিদারক মুহূর্তই তিনি তাঁর লেন্সে ফ্রেমবন্দী করেন। পুরস্কার পাওয়ার অনুভূতি জানাতে গিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, ‘দৃকের এই উদ্যোগই দেশের সবচেয়ে বড় আলোকচিত্র-প্রতিযোগিতা। এই স্বীকৃতিতে আমি সত্যিই আনন্দিত।’
‘জনমুখী সাংবাদিকতা ও রাজনীতি’ বিভাগে সেরা হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছেন ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশের মো. মাজহারুল ইসলাম এবং বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে একই প্রতিষ্ঠানের ফটোগ্রাফি প্রধান মো. মাহমুদ জামানকে। ‘শিল্প, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া’ বিভাগে বিজয়ী ডেইলি সানের ক্রীড়া ফটোসাংবাদিক তানভীন তামিম এবং বিশেষ সম্মাননা জিতেছেন দৈনিক ওয়ার আলোকচিত্রী আব্দুল গনি। এছাড়া ‘আদিবাসী জনগোষ্ঠী গ্র্যান্ট ২০২৬’ পেয়েছেন প্রথম আলোর বান্দরবানের প্রতিনিধি মং হাই সিং মারমা। এই গ্র্যান্টের মাধ্যমে তিনি পাবেন অর্থনৈতিক সহায়তা, বছরব্যাপী পরামর্শ এবং আগামী বছরের প্রদর্শনীতে কাজ প্রদর্শনের সুযোগ। বর্তমান প্রদর্শনে গত আসরের গ্র্যান্টজয়ী জাজং নকরেকের আলোকচিত্রও স্থান পেয়েছে।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রাক্তন গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান ও ডেইলি স্টারের পরামর্শক সম্পাদক কামাল আহমেদ। তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের সুরক্ষায় স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনের যে সুপারিশ তার কমিশন করেছিল, ভবিষ্যতে নির্বাচিত সরকার সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। দৃকের প্রতিষ্ঠাতা ও বিশিষ্ট আলোকচিত্রী শহিদুল আলম আয়োজনের স্বাগত বক্তৃতায় বলেন, মাঠ পর্যায়ে ঝুঁকি মাথায় নিয়েও কাজ করে যাচ্ছেন ফটোগ্রাফাররা। তাদের নিবেদনকে মর্যাদা দেওয়ার জন্যই এ উদ্যোগ। বিচারক দলের পক্ষ থেকে প্রথম আলোর আলোকচিত্রী বুদ্ধজ্যোতি চাকমা মন্তব্য করেন, জমা পড়া ছবিগুলোতে ব্যাপক বৈচিত্র্য ছিল এবং বিশেষ করে আদিবাসী ফটোগ্রাফারদের অংশগ্রহণ ও নারীদের দৃঢ় রাজনৈতিক ভাবমূর্তি স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। প্রতিযোগিতায় বিচারকের ভূমিকা পালন করেন প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা দীনা হোসাইন, আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপির মুনির উজ জামান এবং শহিদুল আলম।
১৩ দিন ধরে চলবে এই প্রদর্শনীটি। ১২ আগস্ট পর্যন্ত প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীরা প্রদর্শনীটি উপভোগ করতে পারবেন।




