সিঙ্গাপুর কর্তৃপক্ষ জনপ্রিয় ব্রিটিশ ট্রিপ-হপ ব্যান্ড ম্যাসিভ অ্যাটাকের ওপর ভবিষ্যতে দেশটিতে প্রবেশ এবং কনসার্ট করার ওপর আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। গত বুধবার সিঙ্গাপুরে আয়োজিত এক সংগীতানুষ্ঠানে ব্যান্ডটির দুই সদস্য মঞ্চে ফিলিস্তিনের পতাকা উত্তোলন এবং ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগান দেন। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই কর্তৃপক্ষ কঠোর এই সিদ্ধান্ত নেয়।
ঘটনার তদন্ত শেষে সিঙ্গাপুর পুলিশ ব্যান্ড সদস্য রবার্ট ডেল নাজা ও গ্রান্ট মার্শালকে এক কঠোর সতর্কবার্তা (স্টার্ন ওয়ার্নিং) প্রদান করে। একইসাথে দেশটির গণমাধ্যম নিযন্ত্রক সংস্থা জানায়, ম্যাসিভ অ্যাটাকের ভবিষ্যৎ কোনো কনসার্ট আয়োজনের আবেদন আর অনুমোদন দেওয়া হবে না। পুলিশ জানিয়েছে, কনসার্ট চলাকালে শিল্পীদের পাশাপাশি দর্শকদের একটি অংশও স্লোগানে সমর্থন জানায়।
পুলিশের এক মুখপাত্র বিবিসিকে নিশ্চিত করেন, ব্যান্ডের দুই সদস্যের বিরুদ্ধে ফরেন ন্যাশনাল এমব্লেমস (কন্ট্রোল অব ডিসপ্লে) অ্যাক্ট, ১৯৪৯ এবং পাবলিক অর্ডার অ্যাক্টের সম্ভাব্য লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত করা হয়েছে। প্রথম আইনটিতে বিশেষ অনুমতি ছাড়া জনসমক্ষে কোনো বিদেশি জাতীয় পতাকা প্রদর্শন নিষিদ্ধ। অপর আইনে রাজনৈতিক জনসমাবেশের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে।
সিঙ্গাপুর পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'সিঙ্গাপুরের জাতিগত ও ধর্মীয় সম্প্রীতি যেকোনোভাবে ক্ষুণ্ন করতে পারে এমন কাজকর্মকে আমরা অত্যন্ত গুরুত্ত্বের সঙ্গে বিবেচনা করি। বাইরের জগতের ঘটনাগুলো যেন আমাদের সমাজের ওপর কোনো প্রভাব বিস্তার করতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর।'
দীর্ঘদিন ধরেই গাজা যুদ্ধসহ নানাবিধ আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ইস্যুতে সরব ভূমিকা রেখে চলেছে ম্যাস্প্যাস অ্যাটাক। চলতি বছরের শুরুতে লন্ডনে ফিলিস্তিনপন্থী এক বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় ডেল নাজাকে গ্রেপ্তারও হতে হয়েছিল। বর্তমানে ব্যান্ডটি একটি বিশ্ব সফরে রয়েছে এবং গতকাল শনিবার তাদের পরবর্তী কনসার্ট দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
প্রসংগত, ২০২৩ সালে ইসরায়েল-গাজা সংঘাত শুরুর পর থেকেই সিঙ্গাপুর সরকার জনসমক্ষে যুদ্ধ-সংশ্লিষ্ট কোনো প্রতীক, পোষাক বা বিদেশী পতাকা প্রদর্শন থেকে বিরত থাকার জন্য নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছে। সেই সঙ্গে ফিলিস্তিন-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন জমায়েত ও কর্মসূচির বিরুদ্ধেও কর্তপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। উল্লেখ্য, এসব কঠোরতার বাইরে সিঙ্গাপুর সরকার জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের পূর্ণ সদস্যপদের অনুকূলে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন জানিয়ে আসছে।



