মোহাম্মদ ইকবাল পরিচালিত ‘গুলশানের চামেলি’ সিনেমায় আইনজীবীর ভূমিকায় দেখা যাবে আজমেরী হক বাঁধনকে। গত শনিবার রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত ছবির মহরতে এই তথ্য জানানো হয়। এই সিনেমায় তার যুক্ত হওয়ার সংবাদ প্রচারিত হওয়ার পরপরই সামাজিক যোগাযোগের নানা প্ল্যাটফর্মে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় ওঠে।
অনেক দর্শক ফেসবুক মন্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন, কেন ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ এবং ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’-এর মতো সমালোচকপ্রশংসিত কাজের পর বাঁধন একটি বিশুদ্ধ বাণিজ্যিক ধারার ছবিতে নাম লিখিয়েছেন। ক্রমবর্ধমান এ নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার প্রেক্ষিতে রোববার দুপুরে এক ফেসবুক পোস্টে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন এই তারকা।
নিজের অনুভূতি ভাগ করে বাঁধন লেখেন, এই প্রজেক্টে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া তার জন্য সত্যিই অত্যন্ত দুরূহ ছিল। তবে, সিনেমাটির আখ্যান তার মন ছুঁয়ে গিয়েছিল। তিনি আরও যোগ করেন, ‘এখন পর্যন্ত সম্পূর্ণ দলটির কাছ থেকে যে সমীহ ও সাহায্য পেয়েছি, তাও আমি আন্তরিকতার সঙ্গেই মূল্যায়ন করি।’
তিনি তার বিচিত্র ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে লিখেন, বিগত বহু বছর ধরে তিনি বিভিন্ন নির্মাতার তত্ত্বাবধানে বিচিত্র সব প্রযোজনায় শ্রম দিয়েছেন। প্রতিটি পরিস্থিতি তাকে কিছু না কিছু শিখিয়েছে। কিছু অভিজ্ঞতা ছিল মনোরম, আর কিছু ছিল চ্যালেঞ্জিং। কিন্তু সব মিলিয়েই বর্তমানের তাকে গড়ে উঠতে সহায়তা করেছে। জীবন ও সৃষ্টিকর্তার অফুরন্ত অনুগ্রহের জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেছেন, প্রতিটি পরিস্থিতি তাকে আরও দৃঢ় করেছে।
নিজের স্বাধীনতায় অনড় থেকে বাঁধন সোজাসাপ্টা ভাষায় তার পোস্টে অনুরোধ রাখেন, তার জীবন ও দায়িত্ব অপর কেউ বহন করবে না, তাই সিদ্ধান্তের ব্যাপারে পরামর্শ দিয়ে কেউ যেন নিজেদের মূল্যবান সময় অপচয় না করেন। তার আশপাশে এমন কিছু মানুষ রয়েছেন যাদের মতামত তিনি বিশ্বাস ও শ্রদ্ধা করেন এবং মেনে চলেন। শেষে তিনি উল্লেখ করেন, তিনি নিজের জীবন সম্পর্কে সন্তুষ্ট এবং ভবিষ্যতে আরও অগ্রগতি ও সুখী হওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
মহরতে পরিচালক ইকবাল বাঁধনকে স্বাগত জানিয়ে বলেছিলেন, তিনিই চলচ্চিত্রটির নায়ক। ‘গুলশানের চামেলি’তে আরও অভিনয় করবেন কলকাতার অভিনেত্রী মধুমিতা সরকার, ওমর সানী, মিশা সওদাগর, রোজিনা ও আশীষ খন্দকারসহ আরও অনেকে।



