শিল্পী শামছুল আলম আজাদের একক প্রদর্শনী ‘দৃশ্যমান কাঠামো’ শুরু হয়েছে নারায়ণগঞ্জের গ্যালারি চিত্রকে। ৪ জুলাই উদ্বোধনের পর এই প্রদর্শনী চলছে ১৮ জুলাই পর্যন্ত। নারায়ণগঞ্জ ইনস্টিটিউট অব ফাইন আর্টসের অধ্যক্ষ এই শিল্পীর কাজ প্রকৃতিকে চোখে দেখা বাস্তবতা হিসেবে না এঁয়ে রং, রেখা ও টেক্সচারের স্বতঃস্ফূর্ত বিন্যাস থেকে সৃষ্টি করে। শিল্পীর ভাষ্যে, শিল্পের জন্ম আনন্দ থেকে, যেখানে রঙের বিন্দু বা দাগ নিজস্ব গতিতে বিস্তৃত হয়ে শেষ পর্যন্ত পাহাড়, নদী বা আকাশের মতো রূপ ধারণ করে। ছেলেবেলায় পাখি, মৌমাছি, উইপোকার নির্মাণশৈলী ও পিঁপড়ার চলন থেকে তাঁর মধ্যে প্রকৃতিকে সৃষ্টিশীল প্রক্রিয়া হিসেবে দেখার বোধ গড়ে ওঠে। প্রদর্শনীর কাজগুলো অ্যাক্রিলিক ও জলরঙে ক্যানভাস ও কাগজে আঁকা, যেখানে রং নিজেই কাঠামো নির্মাণ করে।

প্রদর্শনীটি তিনটি সিরিজে বিভক্ত: ‘কাঠামোর বৈভব’, ‘রঙের বৈভব’ ও ‘ভূদৃশ্যের বৈভব’। নামের পার্থক্য থাকলেও প্রতিটি সিরিজের মূল ভিত্তি এক—রং, ফর্ম ও টেক্সচারের বিন্যাস। ‘কাঠামোর বৈভব’-এ রঙের স্তর, ক্ষয়, ঘর্ষণ ও ঘন-পাতলা পেইন্টের ব্যবহার প্রধান ভাষা। ধূসর-কালোর স্থিরতা ও লাল-সাদার বিস্ফোরণ আভ্যন্তরীণ শক্তির ইঙ্গিত দেয়। ‘ভূদৃশ্যের বৈভব’-এ সেই বিমূর্ত কাঠামো পরিচিত প্রকৃতির আভাস বহন করে; সবুজে কৃষিজমি ও নীল-ধূসরে নদী-পাহাড়ের ইঙ্গিত মেলে। জলরঙের কাজগুলো স্বচ্ছ স্তর ও পানি প্রবাহে ধ্যানমগ্ন কোমলতা নিয়ে এসেছে।

২০১০ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে সৃষ্ট এসব কাজ অধিকাংশই ছোট আকারের। বাংলাদেশের টেক্সচারনির্ভর বিমূর্ত চিত্রে বড় ক্যানভাসের রীতি থাকলেও আজাদ ছোট জমিনে কাজ করে ঘনিষ্ঠ সংলাপ তৈরি করেছেন। কিবরিয়া ও সফিউদ্দীনের রংচিন্তা ও গঠনশৃঙ্খলার প্রতি শ্রদ্ধা থাকলেও নিজস্ব ভাষা খুঁজে পেয়েছেন তিনি। ‘দৃশ্যমান কাঠামো’ প্রদর্শনী প্রমাণ করে প্রকৃতি কেবল দৃশ্যমান বাস্তবতা নয়, রঙের ভেতর থেকেও জন্ম নিতে পারে। একটি বিন্দু বা টেক্সচারের ক্ষুদ্র আন্দোলন ধীরে ধীরে দৃশ্যমান জগতে পরিণত হয়। দর্শক এখানে শুধু ভূদৃশ্য দেখেন না, বরং রঙের নিজের ভেতর থেকে দৃশ্য হয়ে ওঠার রহস্য প্রত্যক্ষ করেন।