বর্তমানে দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় মুখ ভাগ্যশ্রী বোর্সে। অখিল আক্কিনেনির বিপরীতে সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত ‘লেনিন’ ছবিটি দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। তবে এই সাফল্যের পথ কিন্তু মসৃণ ছিল না। এক অনুষ্ঠানে শৈশবের কঠিন দিনগুলোর কথা স্মরণ করেন তিনি।

জন্মের পরপরই বাবা চাকরি হারান, এরপর থেকেই নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারটিকে টানাপোড়েনের মধ্যে দিন কাটাতে হয়েছে। মহারাষ্ট্রের ঔরঙ্গাবাদে জন্ম নেওয়া ভাগ্যশ্রীর শৈশবের বড় একটি অংশ কেটেছে নাইজেরিয়ার লাগোসে। প্রায় সাত বছর সেখানে পড়াশোনা শেষ করে পরিবারের সঙ্গে ভারতে ফিরে আসেন। মুম্বাইয়ে ব্যবস্থাপনা পড়ার পাশাপাশি মডেলিং শুরু করেন তিনি।

অর্থের কঠোর বাস্তবতা বোঝার বয়স তখন হয়নি। কিন্তু বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি উপলব্ধি করেন, সংসার চালাতে তাঁর মা-বাবাকে কতটা সতর্ক থাকতে হতো। ভাগ্যশ্রী বলেন, ‘ছোটবেলায় টাকার মূল্য বোঝা যায় না। শুধু খেলা আর খাওয়াই ছিল পৃথিবী। কিন্তু পরে দেখেছি, মা-বাবা খাতায় লিখে রাখতেন—১০ টাকার কাঁচা মরিচ, ১০ টাকার পালংশাক। সপ্তাহে ৩০০ টাকা খরচ হলে আগামী সপ্তাহের ভাবনা তাঁদের কুঁড়ে কুঁড়ে কাটিয়ে দিত। নিজের চোখে সেই লড়াই দেখা খুব বেদনাদায়ক ছিল।’

তবে সবচেয়ে বেশি দাগ কেটেছে বাবার একটি অনুরোধ। তিনি বলেন, ‘আমি নিজের চোখে দেখেছি, বাবা এক ব্যক্তির কাছে বলছেন, “আমার দুটি মেয়ে আছে, দয়া করে আমাকে একটা কাজ দিন।” ছোট একটি শিশুর কাছে বাবাকে এভাবে অনুরোধ করতে দেখা অকল্পনীয় কষ্টের। তখনই মনে ঠিক করেছিলাম, জীবনে এমন কিছু করব, যাতে বাবাকে আর কখনো কারও কাছে হাত পাততে না হয়। আজ আমার প্রতিটি স্বপ্নের কেন্দ্রে আছেন মা-বাবা।’

অভিনয়ে যাত্রাটা শুরু হয় ছোট চরিত্র দিয়ে। ‘ইয়ারিয়াঁ ২’ ও ‘চান্দু চ্যাম্পিয়ন’-এ ক্ষণিক উপস্থিতির পর ২০২৪ সালে রবি তেজার বিপরীতে ‘মিস্টার বচ্চন’ ছবিতে নায়িকা হিসেবে নজর কাড়েন। এরপর বিজয় দেবরাকোন্ডার ‘কিংডম’, দুলকার সালমানের ‘কান্থা’ এবং রাম পোথিনেনির ‘আন্ধ্র কিং তালুকা’-তেও অভিনয় করেন। ‘লেনিন’ ছবির সাফল্য তাঁকে আরও উচ্চতায় নিয়ে গেছে। সামনে শিবকার্তিকেয়নের বিপরীতে তামিল ছবি ‘সেয়ন’-এ দেখা যাবে তাঁকে।