রাজধানীর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী স্মরণে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানকে ঘিরে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তন ও শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ছাত্রদলের সঙ্গে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের মধ্যে এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দিনটিকে স্মরণীয় করতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি বিশেষ সেমিনারের আয়োজন করেছিল। বেলা ১১টার দিকে জকসুর প্রতিনিধিরা ও আরও কিছু শিক্ষার্থী হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে মিলনায়তনের দিকে অগ্রসর হন। তাদের প্ল্যাকার্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস চালু ও অস্থায়ী আবাসিক হল নির্মাণ, চিকিৎসাকেন্দ্রে আধুনিক ল্যাব স্থাপন এবং পর্যাপ্ত টেকনিশিয়ান ও চিকিৎসক নিযুক্ত করার মতো দাবি উত্থাপন করা হয়। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যানের মনোযোগ আকর্ষণই ছিল তাদের উদ্দেশ্য। এই সময়ে ইনকিলাব মঞ্চের কিছু সদস্যরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

ঠিক ওই মুহূর্তে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সদস্যদের সাথে জকসু নেতৃবৃন্ধের ধাক্কাঁধাক্কি শুরু হয়। জকসুর নেতারা মিলনায়তনের প্রবেশ পথের বাইরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকেন। তাদের এই অবস্থান কর্মসূচি ও সেমিনার শেষে বেরিয়ে আসার সময় শহীদ মিনারের নিকটে আরও এক দফা সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এতে ছাত্রদলের পাশাপাশি জকসু এবং জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা জড়িয়ে পড়েন। প্রত্যক্ষ্যদর্শীরা জানিয়েছেন, এই তুমুল হাতাহাতির ঘটনায় বেশ কয়েকজন অংশগ্রহণকারী আঘাত পেয়েছেন।

উল্লেখযোগ্যভাবে, অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান মামুন আহমেদ। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দীন বিশেষ অতিথি হিসেবে সেখানে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানের গুরুত্ব বৃদ্ধি করেছিলেন। ঘটনার আকস্মিকতায় পুরো ক্যাম্পাস এলাকা হয়ে ওঠে উত্তপ্ত।