ওপেনএআই-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্যাম অল্টম্যান জানিয়েছেন, মার্কিন সরকারের সঙ্গে আলোচনার পর তাদের সর্বশেষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেলগুলো সাধারণ মানুষের জন্য প্রকাশের আগে প্রতিষ্ঠানটি ‘অনেক পরিবর্তন’ করেছে। সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। অল্টম্যানের ভাষ্য অনুযায়ী, জিপিটি-৫.৬ মডেলটি ব্যাপকভাবে ছাড়ার আগের কয়েক সপ্তাহে মার্কিন বাণিজ্যসচিব হাওয়ার্ড লুটনিক ও অর্থসচিব স্কট বেসেন্টসহ শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে চ্যাটজিপিটির প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানটির ‘সহযোগিতামূলক আলোচনা’ চলে।

প্রথম দিকে ট্রাম্প প্রশাসনের চাপে এই নতুন মডেল পরিবারটি শুধুমাত্র নির্বাচিত অংশীদারদের জন্যই সীমাবদ্ধ ছিল। তবে ওপেনএআই-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, মার্কিন সরকারের নেতৃত্বের কাছ থেকে সবুজ সংকেত পাওয়ার পর জিপিটি-৫.৬ বৃহস্পতিবার সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হচ্ছে। অল্টম্যান এই প্রক্রিয়ায় ওপেনএআই ঠিক কী কী পরিবর্তন এনেছে তার বিস্তারিত উল্লেখ করেননি, তবে বলেছেন যে সরকার বর্তমানে নতুন মডেলগুলো পরীক্ষা করছে এবং সম্ভাব্য সমস্যা খুঁজে বের করছে।

তিনি বলেন, “আমার মনে হয় এই প্রক্রিয়া যতক্ষণ বোধগম্য, ন্যায্য এবং দ্রুত হয়, ততক্ষণ এটি ভালো। সরকারও সত্যিই এই লক্ষ্যগুলো ভাগ করে নিচ্ছে বলে মনে হচ্ছে এবং আমার অনুমান, পরবর্তী মডেল প্রকাশের সময় এটি আরও মসৃণ হবে। আমরা এখন বিষয়টি বুঝতে পেরেছি এবং কীভাবে এগোতে হবে তা জানি।”

অন্যদিকে, ওপেনএআই-এর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক পিবিসি-কে তার ফেবল ৫ ও মিথোস ৫ মডেলগুলো অক্ষম করতে হয়েছিল, যখন বাণিজ্য বিভাগ রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে বিদেশি প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করে। কয়েক সপ্তাহের আলোচনার পর এই বিধিনিষেধ গত মাসের শেষ দিকে প্রত্যাহার করা হয়, যার ফলে অ্যানথ্রপিক তার প্রযুক্তির জন্য অতিরিক্ত সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরি করতে সমর্থ হয়।

সাক্ষাৎকারে অল্টম্যান সম্প্রতি প্রকাশিত খবরগুলোর বিষয়েও প্রতিক্রিয়া জানান, যেখানে বলা হয়েছিল যে ওপেনএআই মার্কিন সরকারকে প্রতিষ্ঠানটির ৫ শতাংশ শেয়ার দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। তিনি এই প্রতিবেদনকে ‘অনেক ভুল তথ্যসমৃদ্ধ’ বলে উল্লেখ করেন। এছাড়া চলতি বছর ওপেনএআই প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে শেয়ার বাজারে আসবে কিনা—এমন প্রশ্নের উত্তরে অল্টম্যান বলেন, “আমি জানি না।” ফরচুন ডটকম-এ মূল এই প্রতিবেদনটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল।