সুনিধি নায়েককে সাধারণত জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী অর্ণবের জীবনসঙ্গী হিসেবেই চেনে অধিকাংশ মানুষ। কিন্তু একজন রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী হওয়ার পাশাপাশি তিনি একাধারে এসরাজবাদক, মডেল এবং অভিনেত্রী। বিগত কয়েক বছরে তিনি নিজেকে বহুমাত্রিক এক শিল্পী হিসেবে তুলে ধরার প্রতি মনোযোগ দিয়েছেন। সম্প্রতি ঢালিউড তারকা শাকিব খানের বিপরীতে ‘রকস্টার’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি বেশ আলোচনায় এসেছেন। অনেক সমালোচকের মতে, এই সিনেমার অন্যতম আকর্ষণীয় দিক ছিল সুনিধির উপস্থিতি। অভিনয় ও সংগীতের সমন্বয়ে এই কাজ তাঁকে মূলধারার বিনোদন অঙ্গনে আরও বেশি দৃশ্যমান করে তুলেছে।

‘রকস্টার’ সিনেমার প্রচারের অংশ হিসেবে সুনিধির গাওয়া ‘ও যে মানে না মানা’ গানের কিছু অংশ সামাজিক মাধ্যমগুলোতে দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। এর আগে স্বামী অর্ণবের সঙ্গে জুটি বেঁধে কোক স্টুডিও বাংলায় পরিবেশিত ‘সন্ধ্যাতারা’ গানটি ছিল অত্যন্ত সফল একটি প্রযোজনা। ইউটিউবে কোক স্টুডিও বাংলার চ্যানেলে এই গানটি এখন পর্যন্ত ১ কোটি ৭০ লাখ বারের বেশি দেখা হয়েছে।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আসানসোলে শৈশব কাটানো সুনিধির সংগীত চর্চার মূল ভিত্তি স্থাপিত হয় শান্তিনিকেতনে। সেখানে রবীন্দ্রসংগীতের পাশাপাশি তিনি হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সংগীতেও প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ নেন। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই অর্ণবের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়, যা পরবর্তী সময়ে পরিণয়ের দিকে গড়ায়। ২০২০ সালে বিয়ের পর তিনি নিয়মিতভাবে বাংলাদেশেও কাজ করা শুরু করেন। সময়ের সাথে নিজ শিল্পগুণে এ দেশেও তিনি যথেষ্ট জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। ২০২৪ সালে তিনি ‘আড়ালে’ নামে নিজের প্রথম একক অ্যালবাম প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে, সম্প্রতি স্বামী অর্ণবের ‘মেঘ’ গানটিকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। এ প্রসঙ্গে সুনিধি নায়েক তাঁর মতামতে বলেন, একজন শিল্পীর সব কাজ সমানভাবে সফল না-ও হতে পারে, কারণ তিনি মানুষ, কোনো যন্ত্র নন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো শিল্পী কেবল তাঁর সেরা কাজের মাধ্যমেই টিকে থাকেন না, বরং তাঁর ব্যর্থতাগুলোও সৃষ্টিশীল যাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশ। সুনিধি সমালোচকদের প্রতি অনুরোধ জানান, কাজের সমালোচনা করা হোক, কিন্তু শিল্পীকে ব্যক্তিগতভাবে অপমান বা বিদ্রূপ করা উচিত নয়, নতুবা একদিন সেই সৃষ্টিশীল মানুষ নতুন কিছু করার সাহসই হারিয়ে ফেলতে পারেন।

এছাড়া সুনিধি পোষা প্রাণীর প্রতি গভীর অনুরাগ প্রকাশ করেন এবং প্রায়ই সামাজিক মাধ্যমে তাদের সঙ্গে ছবি পোস্ট করেন। বইপ্রেমী এই শিল্পী এক ছবির ক্যাপশনে লিখেছিলেন, ‘বইয়ের মতোন বিশ্বস্ত বন্ধু আর হয় না।’ ‘রকস্টার’ সিনেমার প্রচারকালে এক সাক্ষাৎকারে দুই বাংলার প্রসঙ্গ উঠলে তিনি সহজ ভাষায় বলেন, তাঁর কাছে দুই বাংলাই সমান এবং এক; দুইয়ের মধ্যে অঙ্কিত কাঁটাতারের যুক্তি তিনি বোঝেন না।