ব্রাজিল ও নরওয়ের মধ্যকার বিশ্বকাপ ম্যাচটি সরাসরি গ্যালারিতে বসে উপভোগ করেছেন বাংলাদেশি অভিনেত্রী ও মডেল সাফা কবির। নিউইয়র্ক থেকে নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে তিনি যান। সেখানে ব্রাজিলের জার্সি পরে উপস্থিত ছিলেন তিনি। খেলা শেষে প্রথম আলোর সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি তার পুরো অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করেন।
নিউইয়র্কের কুইন্স থেকে যাত্রা শুরু করেন সাফা। শাটল সার্ভিসে করে ম্যানহাটান হয়ে স্টেডিয়ামে পৌঁছান। পথিমধ্যে চারপাশে শুধু হলুদ জার্সির সমারোহ দেখতে পান তিনি। ব্রাজিল সমর্থকদের উচ্ছ্বাস ও গানের মধ্য দিয়ে পুরো পরিবেশ ছিল উৎসবমুখর। তাঁর নিজের জার্সি দেখেও অনেক পথচারী আনন্দ প্রকাশ করেন। নরওয়ের সমর্থকের সংখ্যা ছিল খুবই কম। স্টেডিয়ামের ভেতরও একই চিত্র, প্রায় সত্তর শতাংশ দর্শক ব্রাজিলের পক্ষে ছিলেন।
আর্লিং হলান্ড নরওয়ের হয়ে গোল করার পরও শেষ বাঁশি পর্যন্ত ব্রাজিলের জয়ের আশা ছাড়েননি সাফা। তিনি জানান, ওই সময় দোয়া পড়ছিলেন এবং মনে করেছিলেন ব্রাজিল যদি টাইব্রেকারেও যায়, তাহলেও তারা জিতবে। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দলের প্রতি আস্থা ছিল অটুট।
ব্রাজিলের প্রতি তার ভালোবাসার শুরু ২০০২ সালের বিশ্বকাপ থেকে। সে সময় ছোটবেলায় ব্রাজিলের জয় দেখা এবং এলাকায় রোনালদোর হেয়ারস্টাইলের অনুকরণ দেখে তিনি মুগ্ধ হন। ধীরে ধীরে ফুটবল ও বিশ্বকাপ সম্পর্কে জানতে থাকেন। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ যুক্তরাষ্ট্রে হবে জানার পর থেকেই পরিকল্পনা শুরু করেন তিনি। টিকিট পাওয়া সহজ ছিল না, তবে শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহায়তায় স্বপ্ন পূরণ হয়।
তবে বর্তমান ব্রাজিল দলের পারফরম্যান্স নিয়ে কিছুটা হতাশা প্রকাশ করেছেন সাফা। তাঁর মতে, পুরোনো রোনালদো, রোনালদিনহো, কাকাদের মতো দলীয় সমন্বয় এখন কম দেখা যায়। গ্যালারিতে বসে টপ ভিউ থেকে খেলা দেখে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়। ম্যাচ শেষে ব্রাজিল সমর্থকদের কান্না ও হতাশা তাঁকেও স্পর্শ করেছে। তিনি বলেন, ব্রাজিল সবচেয়ে বেশি বিশ্বকাপ জিতেছে, তাই তাদের কাছ থেকে প্রত্যাশা সবসময় বেশি থাকে।
স্টেডিয়ামে তিনি বাংলাদেশের পতাকা নিয়ে ছিলেন। সেই পতাকা দেখে ব্রাজিলিয়ান সমর্থকরা তাঁকে চিনতে পারেন এবং আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান। কেউ কেউ বাংলাদেশের প্রতি ভালোবাসার কথাও বলেন। সাফা মনে করেন, ব্রাজিলের এখনো সম্ভাবনা রয়েছে। সঠিক প্রস্তুতির মাধ্যমে তারা আবার পুরোনো ছন্দে ফিরতে পারে।
হলান্ডের সঙ্গে দেখা হলে তিনি তাঁকে স্যালুট জানিয়ে দুর্দান্ত খেলার প্রশংসা করতেন বলেও জানান। হলান্ডের শান্ত মানসিকতা ও নিয়ম মেনে চলা তার পছন্দের। অন্যদিকে নেইমারের কান্না তাকে ভীষণভাবে নাড়া দিয়েছে। সাফা বলেন, নেইমার একদিনে এই জায়গায় আসেননি; বছরের পর বছর পরিশ্রম করে তিনি সেরা হয়েছেন। যদি এটি তাঁর শেষ বিশ্বকাপ হয়, তাহলে তা সবার জন্য বেদনাদায়ক হবে। তাঁর উপস্থিতি ব্রাজিলীয় ফুটবলে খুব মিস করবেন বলেও জানান এই অভিনেত্রী।
সব মিলিয়ে এটি তাঁর জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় অভিজ্ঞতা বলেও মনে করেন সাফা। ফলাফল প্রত্যাশা মতো না হলেও স্মৃতি যে অমূল্য, তা জানিয়ে তিনি শেষ পর্যন্ত কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন সেই ব্যক্তির প্রতিও, যিনি তাঁর জন্য টিকিটের ব্যবস্থা করে এই স্বপ্নপূরণের সুযোগ করে দিয়েছেন।




