মালয়েশিয়ার দেসারু কোস্টে রোববার সকালে অনুষ্ঠিত অর্ধদূরত্বের আয়রনম্যান ৭০.৩ প্রতিযোগিতায় সফলভাবে অংশগ্রহণ করেছেন তিন বাংলাদেশি ক্রীড়াবিদ। মোহাম্মদ সামছুজ্জামান আরাফাত, ফাতিন আল ফারাবি ও মো. সাজ্জাদ হোসেন এই কঠিন ট্রায়াথলন ইভেন্টটি সম্পন্ন করতে সক্ষম হন।

ট্রায়াথলনের সবচেয়ে কঠিন সংস্করণ হিসেবে পরিচিত আয়রনম্যানের এই অর্ধদূরত্বের সংস্করণে সাড়ে ৮ ঘণ্টার মধ্যে ১.৯ কিলোমিটার সাঁতার, ৯০ কিলোমিটার সাইক্লিং ও ২১.১ কিলোমিটার দৌড় সম্পন্ন করতে হয়। মোহাম্মদ সামছুজ্জামান আরাফাত ৪ ঘণ্টা ৪৪ মিনিট ৪ সেকেন্ড সময় নিয়ে প্রতিযোগিতা শেষ করেন। ৩৫-৩৯ বছর বয়সী গ্রুপে ৬৬ জন প্রতিযোগীর মধ্যে তিনি নবম স্থান দখল করেন। সব মিলিয়ে ৪০৬ জন সফল প্রতিযোগীর তালিকায় তাঁর অবস্থান ২৯তম।

পেশাগত জীবনে বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক আরাফাত এর আগে ১১ বার পূর্ণদূরত্বের আয়রনম্যান এবং বর্তমানটি সহ মোট ৯ বার আয়রনম্যান ৭০.৩ সম্পন্ন করেছেন। তিনি তাঁর এই অর্জনকে সার্থক বলে মনে করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আয়রনম্যান রেস বাংলাদেশে আগে তেমন পরিচিত ছিল না, কিন্তু দীর্ঘ ১০ বছরের জার্নিতে এটি দেশের মূলধারার ক্রীড়ায় যুক্ত হতে দেখে তিনি আনন্দিত। তাঁর পরবর্তী লক্ষ্য ১০ ঘণ্টার মধ্যে পূর্ণদূরত্বের আয়রনম্যান সম্পন্ন করা।

মো. সাজ্জাদ হোসেন ৪ ঘণ্টা ৫০ মিনিট ২৯ সেকেন্ড সময় নিয়ে নিজের বয়স গ্রুপে (২৫-২৯ বছর) ৩৯ জন প্রতিযোগীর মধ্যে ষষ্ঠ স্থান অর্জন করেন। সব প্রতিযোগীর মধ্যে তাঁর অবস্থান ৩৬তম। পেশায় ট্রায়াথলন প্রশিক্ষক সাজ্জাদের জন্য এটি দ্বিতীয় আয়রনম্যান ৭০.৩ অভিজ্ঞতা, এর আগে কলম্বোয় তিনি প্রতিযোগিতা সম্পন্ন করতে পারেননি।

ফাতিন আল ফারাবি ৬ ঘণ্টা ২৯ মিনিট ১২ সেকেন্ড সময় নিয়ে প্রতিযোগিতা শেষ করেন। তিনি তাঁর বয়স গ্রুপে (৩৫-৩৯) ৬৬ জনের মধ্যে ৪৫তম এবং সব প্রতিযোগীর মধ্যে ২৬৯তম হন। ব্যবসায়ী ফাতিন এর আগে লংকাউইতে আয়রনম্যান ৭০.৩ সম্পন্ন করেছিলেন।

প্রতিযোগিতায় শীর্ষস্থান দখল করেন কিরগিজস্তানের ইভজেনি টিখোনিন (৩ ঘণ্টা ৪৯ মিনিট ৩৬ সেকেন্ড)। দ্বিতীয় হন অস্ট্রেলিয়ার জেড র্যাডবোন (৩ ঘণ্টা ৫৭ মিনিট ২৯ সেকেন্ড) এবং তৃতীয় হন কিরগিজস্তানের ইলিয়া কোসভ (৪ ঘণ্টা ৩ মিনিট ৪৯ সেকেন্ড)।