বিশ্বকাপ জয়ের পর স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে তাঁর দলের সাফল্যের নেপথ্যের দর্শন তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, শুধু ফুটবল দক্ষতা নয়, মানবিক গুণাবলীও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথ দেখিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বকাপে ৫২ দিন, অলিম্পিকে ৪৫ দিন এবং অনূর্ধ্ব-২১ দলের সঙ্গে ৪৩ দিন একসঙ্গে ছিলাম। ভালো মানসিকতার মানুষের সঙ্গে কাজ করতে চাওয়াটাই স্বাভাবিক। এতে দল পরিচালনা সহজ হয়।’ ফুয়েন্তে জানান, দীর্ঘ এই ক্যাম্পে একটি সমস্যাও হয়নি। যাঁরা এক মিনিটও খেলেননি, তাঁরাও অসন্তোষ প্রকাশ করেননি। এর কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, বয়সভিত্তিক ফুটবলে বহু বছর কাজ করার কারণে খেলোয়াড়দের বেশির ভাগকেই তারা ভালোভাবে চেনেন। ফলে কারা মানসিকভাবে শক্ত এবং কারা দীর্ঘ সময় বেঞ্চে থাকলেও মুখ গোমড়া করে বসে থাকবে না, তা আগেই বাছাই করা সম্ভব হয়।
২০১০ সালের বিশ্বকাপজয়ী স্পেন দলের সঙ্গে বর্তমান দলের মিল প্রসঙ্গে ফুয়েন্তে বলেন, মূল মডেল একই রয়েছে। তবে ‘টিকিটাকা’ শব্দটি তিনি পছন্দ করেন না; বরং ‘কম্বিনেশন ফুটবল’ বলতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। তাঁর ভাষায়, ‘টিকিটাকা’ শব্দটিকে কখনো কখনো নেতিবাচকভাবেও ব্যবহার করা হতো। তা সত্ত্বেও এই ফুটবল দর্শন স্প্যানিশ ফুটবলের রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে আছে, যার সূচনা ক্লাব পর্যায়ে। জাতীয় দল কেবল এটিকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে গেছে।
বর্তমান ফুটবলে শুধু বল দখল রাখলেই সাফল্য আসে না জানিয়ে ফুয়েন্তে বলেন, একটি দল ৩০ শতাংশ বলের দখল রেখেও ৩-১ ব্যবধানে জিততে পারে। স্পেন বর্তমানে যে মডেল ব্যবহার করে, তা বোঝার জন্য ইউরোপের অন্যান্য পরাশক্তি স্পেনের কাছ থেকে শিখতে আসে। ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি—সবাই এসেছে। ইতালি তো খুব ঘনঘন আসত। জার্মানিরও একসময় স্পেনের মতো শক্তিশালী ভিত্তি ছিল। তবে এই মডেল বাস্তবায়ন সহজ নয়। প্রথমত, এর জন্য বছরের পর বছর কাজ করতে হয়। দ্বিতীয়ত, এটি ক্লাবগুলোর ওপর ভীষণভাবে নির্ভর করে, কারণ ক্লাবের কোচেরাই তরুণদের গড়ে তোলেন। একদম ছোটবেলা থেকে পাওয়া এই শিক্ষার কারণেই ম্যাচের পরিস্থিতি বোঝার ক্ষেত্রে স্প্যানিশ খেলোয়াড়রা বিশ্বসেরা বলে মন্তব্য করেন ফুয়েন্তে।
স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের পর সরকার দেশটির দলকে বড় সম্মাননা দিয়েছে বলেও সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করা হয়। আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ১৬ বছর পর আবার বিশ্বকাপ জিতেছে স্পেন। ফুয়েন্তের মতে, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও ধৈর্যের ফলেই এই সাফল্য এসেছে।




