দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টির কারণে সাত জেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যদিও গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমেছে। রাজধানী ঢাকায় শনিবার সকাল থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক জানান, আগামী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে তুলনামূলক বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সামগ্রিকভাবে বৃষ্টির তীব্রতা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, রোববার ও সোমবারও দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি থাকবে, কিন্তু মঙ্গলবার থেকে বৃষ্টি অনেকটাই কমে যেতে পারে।
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় চুয়াডাঙ্গায় সবচেয়ে বেশি ১৪৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদ নাজমুল হক প্রথম আলোকে বলেন, সাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাব মৌসুমি বায়ুর সঙ্গে মিলিত হওয়ায় এবং বায়ুচাপের তারতম্য তৈরি হওয়ায় গত কয়েক দিনে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বেড়েছে। এই কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হয়েছে।
ইতিমধ্যে সাগরে প্রবল হাওয়ার কারণে দেশের চার বন্দরে দেওয়া তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত আজ তুলে নিয়েছে আবহাওয়া অফিস। পাশাপাশি পাহাড়ধসের সতর্কবার্তাও প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় তিস্তার পানি বেড়ে যেতে পারে, যার কারণ হতে পারে রংপুর অঞ্চল ও উজানের বৃষ্টি।
আগামী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাস অনুযায়ী, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, গত কয়েক দিনের তুলনায় বৃষ্টির বিস্তার কিছুটা কমলেও দেশের বিভিন্ন নদীর পানি এখনো বাড়তি রয়েছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও পার্বত্য এলাকায় স্থানীয়ভাবে ভারী বৃষ্টির কারণে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি এবং কোথাও কোথাও জলাবদ্ধতার পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। তবে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মঙ্গলবার থেকে বৃষ্টির প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এলে দেশের অধিকাংশ এলাকায় পরিস্থিতির উন্নতি শুরু হতে পারে।




