মার্ক ওয়াল্টারের আকস্মিক বিক্রয়ের পর লস অ্যাঞ্জেলেস ডজার্স কর্তৃপক্ষ সুপারস্টার শোহেই ওহতানির চুক্তির একটি চমকপ্রদ ধারা পুনর্বিবেচনা করতে পারে বলে জানা গেছে। খবরটি প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই ক্রীড়া মহলে এই নিয়ে ব্যাপক জল্পনা শুরু হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত বুধবার, যখন ওয়াল্টার লস অ্যাঞ্জেলেস লেকার্সের মালিকানার একটি বড় অংশ বিক্রি করে দেন। এই বিক্রয়ের খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ডজার্সের ভক্ত ও বিশ্লেষকদের একটি অংশ ওহতানির চুক্তির সেই বিশেষ ধারাটির দিকে নজর দিয়েছেন, যাকে ‘এস্কেপ ক্লজ’ বা মুক্তির শর্ত হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।
চুক্তির এই ধারা অনুযায়ী, ক্লাবের মালিকানা পরিবর্তন হলে বা নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ হলে ওহতানি তার চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। যদিও এ বিষয়ে ডজার্স বা ওহতানির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে ধারণা করা হচ্ছে যে ওয়াল্টারের এই বিক্রয় ওহতানির চুক্তির সেই শর্তটি সক্রিয় করতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ডজার্সের সাথে ১০ বছরের চুক্তি স্বাক্ষর করেন ওহতানি, যার মোট মূল্য ৭০ কোটি ডলার। এই চুক্তিতে বেশ কিছু ধারা ছিল, যার মধ্যে বেতন স্থগিত রাখার মতো অস্বাভাবিক শর্তও ছিল। এবার ‘এস্কেপ ক্লজ’ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ায় দলটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াল্টার যদি ডজার্সের মালিকানাও ছেড়ে দেন, তাহলে ওহতানির অবস্থান নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে ক্লাব কর্তৃপক্ষকে। তবে এখন পর্যন্ত ওয়াল্টারের ডজার্স বিক্রির কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নেই। তার লেকার্স বিক্রয়ই এই জল্পনার মূল উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে, ওহতানির এজেন্ট বা ডজার্সের ম্যানেজমেন্ট কেউই এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। দলের সমর্থকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে — কেউ কেউ উদ্বেগ প্রকাশ করছেন, আবার কেউ কেউ মনে করছেন এটি নিছক গুজব।
ওহতানি সম্প্রতি নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা মৌসুম কাটিয়েছেন। পিচিং ও ব্যাটিং — দুই বিভাগেই তার অসামান্য পারফরম্যান্স ডজার্সকে শিরোপার পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এমন অবস্থায় তার চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা দলের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে বলে মত দিচ্ছেন অনেকে।
বিষয়টি আরও জটিল হচ্ছে এই কারণে যে, ওহতানির চুক্তিতে মালিকানা পরিবর্তন সংক্রান্ত যে ধারা রয়েছে, তা খুব কমই প্রকাশ্যে এসেছে। এবার সেই ধারা কার্যকর হয় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।




