কক্সবাজারের টেকনাফের সাবেক পৌর কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) পেশ করা হয়েছে। রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চে এই অভিযোগ দাখিল করেন প্রসিকিউশন। ট্রাইব্যুনাল অভিযোগটি গ্রহণ করে নেয়। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। আগামী ২৫ আগস্ট এ মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

এ মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ১১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অন্যান্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান (বদি), পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ, র‌্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আনোয়ার লতিফ খান, সাবেক পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুব আলম, সাবেক কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ, সাবেক কোম্পানি কমান্ডার মেজর (অব.) রুহুল আমিন (রাজন), লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. আশেকুর রহমান ও প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক সদস্য স্কোয়াড্রন লিডার নাজমুস সাকিব মাহমুদ।

২০১৮ সালের ২৬ মে রাতে টেকনাফে তথাকথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ প্রাণ হারান একরামুল। তিনি টেকনাফ উপজেলা যুবলীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সভাপতি হিসেবে ১২ বছর দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং পৌর কাউন্সিলর ছিলেন। একরামুলের পরিবারকে চুপ থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। মামলার ঘটনায় ‘আব্বু তুমি কান্না করতেছ যে’—এই উক্তিটি দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।