নরসিংদী শহরের আরশীনগর রেলক্রসিংয়ের সন্নিকটে অবস্থিত বীরপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন স্থানে শুক্রবার সন্ধ্যায় এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা নোয়াখালীগামী আন্তনগর উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনটি নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেওয়ার পর আবার যাত্রা শুরু করে। অল্প গতিতে ট্রেনটি বীরপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এলাকা অতিক্রমের সময় পূর্ব ব্রাহ্মন্দী এলাকার বাসিন্দা আল-আমিন (২৭) তাঁর চার বছরের পুত্র আরিয়ানকে সঙ্গে নিয়ে হঠাৎ রেললাইনে ঝাঁপ দেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ওইদিন বিকেলে বাবা-ছেলে বীরপুর মসজিদের সামনে অবস্থান নিয়েছিলেন।
ট্রেনের ধাক্কায় বাবা ও ছেলে দুজনেই ছিটকে গিয়ে রেললাইনের মধ্যবর্তী ফাঁকে পড়ে যান। এর পরপরই ট্রেনটি তাঁদের শরীরের ওপর দিয়ে অতিক্রম করে। সৌভাগ্যবশত কেউ ছিন্নভিন্ন হননি, তবে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাত লাগে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় মানুষজন দ্রুত দুজনকে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পৌঁছে দেন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর চিকিৎসকরা দেখেন, উভয়ের শারীরিক পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হচ্ছে। তাই উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেওয়া হয়। স্থানীয়দের দ্রুত পদক্ষেপের ফলে দুজনকে সময়মতো চিকিৎসার আওতায় আনা সম্ভব হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তৎক্ষণাৎ পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেন এবং প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পন্ন করেন।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক মনির হোসেন জানান, বাবা-ছেলে উভয়েই গুরুতর অবস্থায় রয়েছেন। মাথাসহ দেহের একাধিক স্থানে গভীর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁদের ঢাকায় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আল-আমিনের বড় ভাই আবদুল কাদের জানান, তাঁর ভাই এখনো নরসিংদী সদর হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্যদিকে ছোট্ট আরিয়ানকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে; সেখানে তার মাথায় ষোলোটি সেলাই দেওয়া হয়েছে। পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে গভীর উদ্বেগ বিরাজ করছে, যদিও উভয়েই বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নরসিংদী রেলওয়ে ফাঁড়ির উপপরিদর্শক দিলীপ চন্দ্র সরকার ঘটনার বিস্তারিত নিশ্চিত করে বলেন, বাবা-ছেলে দুজনই গুরুতর আহত হয়েছেন এবং বর্তমানে চিকিৎসা চলছে। তিনি উল্লেখ করেন, কপাল ভালো হওয়ায় ট্রেনটি তাঁদের ওপর দিয়ে গেলেও কেউ কাটা পড়েননি। প্রাথমিক তদন্তে পারিবারিক কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আল-আমিন নরসিংদী শহরের পূর্ব ব্রাহ্মন্দী এলাকার হাসেম মিয়ার পুত্র। বর্তমানে উভয়ের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে।




