মানুষের মস্তিষ্ক ও বুদ্ধিমত্তা চিরকালই বিজ্ঞানীদের কাছে এক বিস্ময়কর বিষয়। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে জ্ঞান ও বিজ্ঞানের প্রসারের মাধ্যমে সভ্যতার বিকাশ ঘটিয়েছে মানবজাতি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আধুনিক জীবনযাত্রা ও প্রযুক্তির ব্যবহার কি মানুষের চিন্তাভাবনার ক্ষমতাকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করছে? এই প্রশ্নই এখন বিজ্ঞানীদের ভাবিয়ে তুলেছে।
বিংশ শতাব্দীর অধিকাংশ সময়ে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আইকিউ পরীক্ষার স্কোর ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বৃদ্ধির ধারাকে বিজ্ঞানের ভাষায় ‘ফ্লিন ইফেক্ট’ বলা হয়। তবে সম্প্রতি বেশ কিছু উন্নত দেশে এই সূচক ধীর হয়ে পড়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে উল্টো দিকে মোড় নিতে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী 'ইন্টেলিজেন্স'-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় এই নতুন প্রবণতাকে ‘রিভার্স ফ্লিন ইফেক্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, নরওয়ে, ডেনমার্ক ও ফিনল্যান্ডের মতো দেশে তরুণ প্রজন্মের আইকিউ স্কোর হয় স্থির রয়েছে, নয়তো কমছে। তবে বিজ্ঞানীরা স্পষ্ট করেছেন, এর অর্থ এই নয় যে মানুষ জন্মগতভাবে কম বুদ্ধিমান হয়ে যাচ্ছে। বরং, চারপাশের পরিবেশগত পরিবর্তন, শিক্ষাব্যবস্থার ধরন এবং আধুনিক জীবনযাত্রার পরিবর্তনের কারণে পরীক্ষায় মানুষের বুদ্ধিমত্তার ভিন্ন ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে।
গবেষকদের মতে, বুদ্ধিমত্তা হ্রাসের পেছনে কোনো একক কারণ নেই। বরং বিভিন্ন বিষয়ের সম্মিলিত প্রভাবে এমনটি ঘটছে। সম্ভাব্য কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তন, ডিজিটাল প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা, বই পড়ার অভ্যাস কমে যাওয়া, ইন্টারনেটের প্রতি মনোযোগ বেশি দেওয়া এবং সামাজিক-অর্থনৈতিক বৈষম্য। এছাড়াও পরিবেশ দূষণ ও কিছু গোষ্ঠীর স্বাস্থ্যগত অবনতিকেও এর কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে গবেষকেরা জানিয়েছেন, আইকিউ পরীক্ষা কেবল মানুষের সমস্যা সমাধান বা স্মৃতিশক্তির মতো নির্দিষ্ট কিছু দক্ষতা মাপতে পারে। এটি মানুষের সৃজনশীলতা, আবেগপ্রবণ বুদ্ধিমত্তা বা ব্যবহারিক জ্ঞান পরিমাপ করতে সক্ষম নয়। এছাড়াও, সব দেশেই যে এই পতন ঘটছে তা নয়। অনেক দেশে এখনো আগের মতোই স্থির বা উন্নত ফল দেখা যাচ্ছে, যা থেকে বোঝা যায় রাষ্ট্রীয় নীতি, শিক্ষার মান ও উন্নত জীবনযাত্রার ভূমিকা এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ভবিষ্যতে এই পরিস্থিতির উন্নয়নে সুষম শিক্ষাব্যবস্থা, শৈশবের সঠিক বিকাশ এবং সামাজিক বৈষম্য কমানোর পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকেরা। সূত্র: এনডিটিভি




