স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘স্পোর্ত’ জানিয়েছে, বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের খেতাব পাওয়া রদ্রিকে দলে টানার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কাতালান ক্লাব বার্সেলোনা। এই মিডফিল্ডারকে পেলে বার্সা সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস থাকবে বলাই স্বাভাবিক। তবে ন্যু ক্যাম্পে রদ্রির পদার্পণ যে ডাচ মিডফিল্ডার ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ংয়ের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে, এমনটাই মনে করছে পত্রিকাটি।

ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ৩০ বছর বয়সী রদ্রিকে দলে ভেড়াতে পারলে মাঝমাঠে নিজের নিয়মিত স্থানটি হারাতে পারেন ডি ইয়ং। পরিস্থিতি আরও জটিল হলে হান্সি ফ্লিকের দলে ডাচ তারকার আর জায়গাই নাও থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে ক্লাব ছাড়ার বিকল্প ভাবতেও পারেন তিনি। গত অক্টোবরে বার্সেলোনার সঙ্গে নতুন করে চুক্তি সই করেছেন ২৯ বছর বয়সী ডি ইয়ং, যা ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। দীর্ঘ আলোচনার পর এই সমঝোতায় পৌঁছানো গিয়েছিল। এক সময় দল ছাড়ার পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছিল তাঁর। তবে শেষ পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে মিমাংসা হয়ে যায়।

গত মৌসুমে বার্সেলোনার মাঝমাঠে ডি ইয়ং ছিলেন নিয়মিত মুখ। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩৮ ম্যাচে মাঠে নেমে একটি গোল করেছেন এবং সতীর্থদের দিয়ে দিয়ে আরও আটটি গোল করিয়েছেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপেও নেদারল্যান্ডসের হয়ে নিয়মিত খেলেছেন। তবে শেষ ষোলোতে মরক্কোর কাছে হেরে বিদায় নিতে হয় ডাচ দলকে। বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর থেকেই হাঁটুর সমস্যায় ভুগছেন তিনি। প্রাক-মৌসুমের অনুশীলনেও পুরোদমে অংশ নিতে পারেননি। ক্লাব সূত্রে জানা গেছে, অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে তাঁকে। কারণ, সাধারণ চিকিৎসায় কোনো উন্নতি হচ্ছে না। ফলে নতুন মৌসুমের শুরুতেও তাঁকে পাওয়া যাবে না বলে মনে করা হচ্ছে।

রদ্রির দলবদলের বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। গুঞ্জন রয়েছে, রিয়াল মাদ্রিদের প্রস্তাব নাকচ করে বার্সেলোনায় যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি। তবে ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে বার্সার আনুষ্ঠানিক আলোচনা এখনও শুরু হয়নি। সিটির সঙ্গে রদ্রির চুক্তি আছে ২০২৭ সালের গ্রীষ্ম পর্যন্ত। তাঁকে দলে পেতে হলে ৫ থেকে ৬ কোটি ইউরো খরচ হতে পারে। আর্থিক সঙ্কটে থাকা বার্সেলোনার জন্য এই অর্থ জোগাড় করাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।