ভারতের সাবেক অফস্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিনের ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার কৃতিত্ব দিচ্ছেন ভারতের সাবেক ক্রিকেটার সঞ্জয় মাঞ্জরেকারকে। সম্প্রতি জিও হটস্টারের ‘চিকি সিঙ্গেলস’ অনুষ্ঠানে নিজের জীবনের এই অনুপ্রেরণামূলক অধ্যায় তুলে ধরেছেন অশ্বিন।
২০১১ সালে অস্ট্রেলিয়া সফর ছিল অশ্বিনের প্রথম। সে সফরে তিনটি টেস্ট খেলে ১৬৮ ওভার বল করে মাত্র ৯ উইকেট শিকার করেছিলেন তিনি। দেশে ফেরার পথে বিমানে বসে তিনি পড়েছিলেন মাঞ্জরেকারের একটি কলাম, যেখানে তাঁর ফিটনেস, ফিল্ডিং এবং বোলিং অ্যাকশনের ভারসাম্য নিয়ে তীব্র সমালোচনা করা হয়েছিল। প্রতিটি শব্দ যেন তরুণ স্পিনারের মনে সুচের মতো বিঁধছিল।
সেই সমালোচনায় প্রথমে রাগ ও কষ্ট হলেও ক্ষোভকে নিজের ক্ষতির কারণ হতে দেননি অশ্বিন। বরং সেই লেখাকে নিজেকে চেনার আয়না বানিয়ে নেন। অশ্বিন বলেন, ‘আমি জন্মগতভাবে খুব ক্ষিপ্র অ্যাথলেট ছিলাম না, তাই পরের চার বছর ফিটনেস নিয়ে তুমুল খাটুনি খেটেছি।’ সেই কঠোর পরিশ্রমের ফলও পেয়েছিলেন তিনি।
২০১৫ সালে মাঞ্জরেকার আরেকটি কলাম লেখেন, যেখানে অশ্বিনের প্রশংসা করে বলা হয়, ‘অশ্বিন এখন চমৎকার বোলিং করছে।’ তখন মাঞ্জরেকারের নম্বর খুঁজে বের করে তাঁকে মেসেজ পাঠান অশ্বিন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘আপনার সেই নিবন্ধটি আমার জীবনটাই বদলে দিয়েছে। আমি সব সময় দেখি সমালোচনা থেকে শেখার কিছু আছে কি না।’
সমালোচনা থেকে শেখার এই বিরল ক্ষমতার কারণেই ২০২৪ সালে অবসর নেওয়ার সময় অশ্বিনের নামের পাশে ছিল ১০৬ টেস্টে ৫৩৭ উইকেট। ভারতের টেস্ট ইতিহাসে অনিল কুম্বলের (৬১৯ উইকেট) পর তিনিই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি।




