চাকরির বাজারে বর্তমান প্রতিযোগিতা যে আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে, তা আর কেবল ধারণা নয়—বাস্তব সংখ্যা তা প্রমাণ করছে। গ্রিনহাউস নামের একটি নিয়োগ প্ল্যাটফর্মের প্রধান নির্বাহী ড্যানিয়েল চেইট সম্প্রতি ফরচুন ম্যাগাজিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তাদের প্ল্যাটফর্মে প্রতি ১০টি খোলা পদের বিপরীতে গড়ে ২,৫৩৯ জন আবেদনকারী লড়াই করছেন। এই কঠিন বাস্তবতা মোকাবিলায় তার পরামর্শ—যেসব কোম্পানি সবার কাছে পরিচিত, সেগুলোতে আবেদন করা এড়িয়ে চলুন। তিনি বলেন, "শুধু ওপেনএআইয়ের মতো কোম্পানিতে আবেদন করবেন না, কারণ তারা প্রতিদিন সংবাদে থাকে। আপনি যে ধরনের কাজ করতে চান, সেই কাজ করা কম পরিচিত কোম্পানিগুলোতে আবেদন করুন—সেখানেই সাফল্যের সম্ভাবনা বেশি।"

চেইটের তথ্য অনুযায়ী, গ্রিনহাউস প্ল্যাটফর্মে বর্তমানে ১ লাখ ৭৫ হাজার সক্রিয় চাকরির বিজ্ঞাপন রয়েছে। গড়ে প্রতি চাকরির বিজ্ঞাপনের জন্য প্রায় ২৫৪ জন আবেদনকারী থাকায়, নিয়োগকর্তা প্রতি আবেদনের সংখ্যা আগের তুলনায় ৪১২ শতাংশ বেড়ে গেছে। এই হিসাবটি সেই কয়েকটি বড় নামি কোম্পানির আবেদনের বন্যাকে বাদ দিয়েই করা হয়েছে, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে বিপুল সংখ্যক আবেদন আকর্ষণ করে। চেইটের মতে, সমস্যাটি মূলত চাকরির পদ নয়, বরং কোম্পানি। তিনি ব্যাখ্যা করেন, "হাজার হাজার প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দেখা যায়, কিছু কোম্পানি আছে যাদের ব্র্যান্ড খুব উচ্চ-প্রোফাইল। তারা বিপুল সংখ্যক চাকরির আবেদন পায়। কোনো একটি খোলা পদের জন্য হাজার হাজার আবেদন জমা পড়ে। কিন্তু একই ধরনের কাজ করা একই রকমের আরেকটি কম পরিচিত কোম্পানিতে হয়তো খুব কম আবেদনকারী থাকে। তাই আমার পরামর্শ—সংবাদের শিরোনামের বাইরে তাকান।"

নিয়োগকারী ব্যবস্থাপক এবং প্রধান নির্বাহীদের মতে, এই 'নিয়োগের দুঃস্বপ্নে' টিকে থাকার আরও কিছু উপায় রয়েছে। বর্তমানে নতুন চাকরি পাওয়া কঠিন হওয়ার কারণ শুধু বাজারে বেশি প্রার্থী থাকা নয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এআই-এর জটিল চক্র—প্রার্থীরা এআই-এর সাহায্যে তৈরি জীবনবৃত্তান্ত পাঠিয়ে ভিড় কাটানোর চেষ্টা করছে, অন্যদিকে নিয়োগকারীরাও এআই ব্যবহার করছে। পাশাপাশি নিয়োগকর্তারা প্রার্থীদের জন্য নানা নতুন বাধা তৈরি করছেন, যেমন ৬ ঘণ্টার সাক্ষাৎকার, ৯০ মিনিটের মূল্যায়ন পরীক্ষা, অদ্ভুত প্রশ্ন—এমনকি কফি কাপ পরীক্ষা পর্যন্ত।

তরুণ প্রজন্মের জন্য এই চ্যালেঞ্জ আরও তীব্র। বিশ্বব্যাপী প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জেন জি কর্মসংস্থান বা শিক্ষার বাইরে (এনইইটি) রয়েছে। শুধু গত বছর যুক্তরাজ্যে ১৭ হাজারের কম স্নাতক পদের জন্য ১২ লাখের বেশি আবেদন জমা পড়েছে। গোল্ডম্যান স্যাকসের অর্থনীতিবিদরাও স্বীকার করেছেন যে জেন জি-র এই নিয়োগ সংকট বাস্তব এবং তা সহজে দূর হবে না।

তবে হতাশ তরুণ কর্মীদের জন্য কিছু কার্যকর কৌশল রয়েছে। একজন জেন জি নিয়োগকারী ব্যবস্থাপকের মতে, হাতে লেখা একটি চিঠি বা নোট পাঠানো একটি সহজ জয় হতে পারে, কারণ বর্তমানে এগুলো খুবই বিরল। অন্যদিকে, নেটস্কোপের প্রধান নির্বাহী সঞ্জয় বেরি ফরচুনকে জানিয়েছেন, বর্তমানে চাকরি পাওয়ার একমাত্র নির্ভরযোগ্য উপায় হলো সরাসরি আবেদন না করে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে কারও সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা। তার মতে, সেরা কিছু চাকরি কখনোই প্রকাশ্যে বিজ্ঞাপিত হয় না। তিনি তরুণ ও উদ্যোমী চাকরিপ্রার্থীদের সপ্তাহে অন্তত দুই থেকে তিনবার নেটওয়ার্কিং করার পরামর্শ দেন।

সবশেষে, সবচেয়ে স্পষ্ট পরামর্শ হলো—এআই-এর বিরুদ্ধে না গিয়ে তার সঙ্গে যুক্ত হওয়া। এআই হয়তো চাকরি কমাচ্ছে, কিন্তু প্রধান নির্বাহীরা ধারাবাহিকভাবে বলছেন, এআই-এ দক্ষতা বর্তমানে সবচেয়ে আলাদা করে দেওয়ার মতো গুণ। গ্লিনের প্রধান নির্বাহী অরবিন্দ জৈন ফরচুনকে বলেন, "এটি সুযোগের সময়। এই অসাধারণ সরঞ্জামটি আপনাকে অনেক কিছু করতে সক্ষম করে।" তার মতে, যে প্রার্থী সত্যিই এআই-কে আত্মস্থ করেছে, সে না করা ব্যক্তির চেয়ে দশ গুণ গতিতে কাজ করতে পারে এবং এই ব্যবধান কেবল বাড়বে। তিনি বলেন, "আপনি যদি এই সরঞ্জামগুলো আয়ত্ত করতে পারেন, তাহলে অসাধারণ সফটওয়্যার, সিস্টেম, অ্যাপ্লিকেশন, চিত্র ও ভিডিও তৈরি করতে পারবেন। আপনার সৃজনশীলতা দেখানোর জন্য এটি ব্যবহার করুন।"