পরিবারসহ এই প্রথমবারের মতো ওই শহরে পা রেখে লেখকের ছেলে এয়ারপোর্টের সৌন্দর্যে এতটাই মুগ্ধ হয় যে ‘ওয়াও’ বলে চিৎকার করে ওঠে। আশপাশের মানুষজন মিষ্টি হেসে তা উপভোগ করে, আর ছেলেটি লজ্জায় মাথা নিচু করে মুচকি হাসে। লেখকের হৃদয়ে সেই হাসি অমলিন রয়ে যায়।

ফুটওভার ব্রিজ পেরোনোর সময় ছেলের কৌতূহলী প্রশ্ন—কে ছাদ দিয়েছে? কেন ফুলগাছ লাগিয়েছে?—শুনে লেখক বুঝতে পারেন, এই প্রশ্নগুলোর মধ্যেই উত্তর লুকিয়ে আছে। তিনি সন্তানকে বোঝান, ভালো মানুষেরা এসব করেছেন, যাতে সবাই বৃষ্টি থেকে বাঁচতে পারে এবং আনন্দ পায়। লিফটে ওঠার সময় ছেলে বাটন চাপার আগ্রহ দেখায়, আর স্থানীয় শিশুরা নিজেদের সরিয়ে দিয়ে তাদের সর্বোচ্চ জায়গাটুকু ছেড়ে দেয়।

লিফট থেকে নামার পর এক বয়স্ক নারী বাচ্চাদের চকলেট বার ও মোড়ক জড়ানো কিছু উপহার দেন। লেখক লক্ষ্য করেন, তাঁর ব্যাগে বৌদ্ধ ধর্মীয় বই ও মূর্তি রয়েছে। তিনি বুঝতে পারেন, ধর্ম ভিন্ন হলেও ভালোবাসার প্রকাশ একই।

মেট্রোতে ওঠার পর ভিড়ের মধ্যে আসন পাওয়া কঠিন ছিল। কিন্তু মধ্যবয়সী দুই মহিলা ও এক ভারতীয় পুরুষ তাদের পরিবারের জন্য সিট ছেড়ে দেন। ছেলে বিশেষ সিটের পাশে ‘Please offer the seat, who needs it most’ লেখা পড়ে অর্থ জিজ্ঞাসা করে। লেখক তাকে বোঝান, এরা খুব ভালো মানুষ।

জাপানিজ গার্ডেনে পৌঁছে তপ্ত রোদেও ভ্রমণেচ্ছুদের ভিড় দেখা যায়। বনসাই গার্ডেন, গ্র্যান্ড আর্ক হোয়াইট রেইনবো ব্রিজ, টুইন প্যাগোডা প্রভৃতি ঘুরে দেখেন তাঁরা। সানকেন হাউসের গেটে পরিবারের ছবি তোলার সময় স্থানীয় এক ব্যক্তি এগিয়ে এসে বলেন, ‘আমি আপনাদের একসঙ্গে ফ্রেমবন্দী করতে সাহায্য করছি।’ তিনি লেখকের মুঠোফোন নিয়ে পুরো পরিবারের ছবি তুলে দেন।

লেখকের মতে, এই অভিজ্ঞতা দেশ, জাতি, ধর্ম, বর্ণের ভেদাভেদ ভুলিয়ে দিয়ে ভালোবাসার সর্বজনীনতা তুলে ধরে। তিনি মনে করেন, ভালোবাসাই একমাত্র ধর্ম যা সব ধর্মের পার্থক্য মুছে দিতে পারে। ধর্মের উৎপত্তি ও উদ্দেশ্য ভালোবাসা হলেও তার উপস্থিতি আমরা কমই দেখি। অথচ ভালোবাসাই যদি ধর্ম হয়, তাহলে অন্য কোনো ধর্মের প্রয়োজন নেই।