মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাঘাই সোমবার জানিয়েছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি খোলা হবে না। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহ যে পথ দিয়ে যায়, সেই হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়াকে যুদ্ধের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বাঘাই বলেন, ‘মার্কিন পক্ষকে তাদের অবৈধ ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড বন্ধ করে তার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।’ ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া, যুদ্ধে ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের জমাট বাঁধা সম্পদ মুক্ত করার দাবি জানিয়েছে তেহরান। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থায় ওমানের সঙ্গে ইরানের আলোচনা চলছে প্রণালী দিয়ে যাতায়াতের বিষয়ে, সম্ভাব্য একটি অস্থায়ী শিপিং করিডোর চালুর বিষয়েও। তবে প্রকৃত পুনরায় চালু করার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার ওপর নির্ভরশীল বলে জানিয়েছে তেহরান।

অন্যদিকে, পশ্চিম তীরের খ্রিষ্টান অধ্যুষিত তাইবেহ শহরটিকে বন্ধ সামরিক অঞ্চল ঘোষণা করেছে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী এবং বহিরাগতদের প্রবেশ আটকাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। শহরটির পূর্ব ও পশ্চিমে বসতি থাকায় সেখানে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর এবং ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটে আসছিল। তবে এই আদেশ ফিলিস্তিনি বাসিন্দা এবং সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না, যদি না তারা নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করে। রামাল্লাভিত্তিক ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী বা সৈন্যদের হাতে অন্তত ৮৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। তাইবেহ শহরের কিছু অংশ ‘এলাকা বি’-তে অবস্থিত, যেখানে ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ রয়েছে, কিন্তু বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন চরমপন্থী বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় সেনা ও পুলিশ ধীরগতিতে সাড়া দেয়।

ইয়েমেনে রবিবার হুতি বিদ্রোহীদের হামলায় সরকার নিয়ন্ত্রিত বন্দর শহর মোখায় সাতজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইয়েমেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের অধীনে পরিচালিত এই মন্ত্রণালয় বলেছে, নিহতদের মধ্যে চারজন সামরিক কর্মকর্তা এবং তিনজন বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন, আহত হয়েছেন আরও ৩০ জন। ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর সৌদি সমর্থিত সরকারের অবস্থান এবং সামরিক অবস্থানগুলোর ওপর হুতিদের সবচেয়ে বড় হামলার একটি এটি। হরমুজ প্রণালী দিয়ে শিপিং বন্ধ থাকায় এখন অনেক জাহাজ লোহিত সাগর এবং বাব এল-মান্দেব প্রণালী হয়ে যাতায়াত করছে, ফলে এই অঞ্চলে নতুন করে নজর পড়েছে।

এদিকে গাজায় দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে প্রায় পুরো অঞ্চলটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, তবে মৌমাছি পালনকারীরা তাদের ব্যবসা পুনরায় শুরু করার চেষ্টা করছেন। যুদ্ধ শুরুর আগে গাজার কৃষি জমিতে এই খাতটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কিন্তু এখন ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় ফিরে গিয়ে অনেকেই মৌমাছির খোঁজ পেয়েছেন। গাজা সিটি এবং জাবালিয়ার কিছু অংশে মৌমাছির বাক্স রক্ষণাবেক্ষণ করে নিজেদের ও পরিবারের আয়ের পথ তৈরি করার চেষ্টা করছেন তারা। তবে মৌমাছি পালনের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামসহ অনেক পণ্য গাজায় প্রবেশে ইসরায়েলের অবরোধের কারণে তাদের প্রচেষ্টা সীমিত হয়ে পড়ছে। সমবায় মৌমাছি পালনকারী সমিতির প্রধান ইব্রাহিম আল-দাব্বেহ বলেছেন, ‘টেকসই উন্নয়ন, পরিবেশগত ভারসাম্য এবং কৃষির জন্য মৌমাছি খাতটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’