মার্কিন প্রশাসন ফ্লোরিডার তেল ব্যবসায়ী এবং রিপাবলিকান পার্টির অন্যতম বড় অর্থদাতা হ্যারি সার্জেন্ট তৃতীয়কে ভেনেজুয়েলায় তার ব্যবসা থেকে সরে আসার জন্য কঠোর চাপ প্রয়োগ করছে। বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত কয়েকজন ব্যক্তি জানিয়েছেন, শুক্রবার মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট সার্জেন্টের অফশোর কোম্পানির সম্পদ জব্দ করেছে, যেটি ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন প্রকল্পে অংশ নেয়। তারা বলেন, একই সময়ে ডিপার্টমেন্টটি এমন একটি লাইসেন্স জারি করেছে যার মাধ্যমে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানে নিজের মালিকানা শেষ করে দিতে পারবেন।
বহু বছর ধরে ওয়াশিংটন ও কারাকাসের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কের সময় সার্জেন্ট উভয় পক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক চ্যানেল হিসেবে কাজ করেছেন। মার্কিন মেরিন কর্পসের সাবেক পাইলট হিসেবে পরিচিত এই ব্যবসায়ী দুই দেশের কাছেই অসাধারণ প্রভাব অর্জন করেছিলেন। তবে সম্পদশালী ভেনেজুয়েলায় নতুন মার্কিন সমর্থিত প্রেসিডেন্ট ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতি ঘটে।
নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ট্রেজারির অফিস অফ ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল সার্জেন্টের ব্লুওয়েভ প্রপার্টিজ লিমিটেডকে শাস্তি দিয়েছে। ২০১৮ সালের একটি নির্বাহী আদেশ লঙ্ঘনের অভিযোগে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যা কারাকাসের পূর্ববর্তী সরকারকে সমর্থন করেছে বলে বিবেচিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি আটকে রাখার জন্য জারি করা হয়েছিল। শনিবার সকাল পর্যন্ত ব্লুওয়েভকে ট্রেজারির নিষেধাজ্ঞার তালিকায় যুক্ত করা হয়নি, তবে প্রতিষ্ঠানটি ধরে নিচ্ছে যে তারা নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির বিরুদ্ধে যাওয়া প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন আটকাতে বিভাগটি বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে পারে বলে জানা গেছে।
ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডসভিত্তিক ব্লুওয়েভের উত্তর আমেরিকায় তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান নর্থ আমেরিকান ব্লু এনার্জি পার্টনার্সে (এনএবিইপি) সংখ্যালঘু অংশীদারিত্ব রয়েছে। শেভরন কর্পোরেশনের পর ভেনেজুয়েলার দ্বিতীয় বৃহত্তম বেসরকারি তেল উৎপাদনকারী এই প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদিত কিছু তেল অ্যাসফল্টে রূপান্তরিত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সড়ক নির্মাণে ব্যবহৃত হয়।
সার্জেন্ট এই বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টও মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলায় মার্কিন নীতি একটি তিন ধাপের পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে স্থিতিশীলতা, পুনরুদ্ধার এবং রূপান্তর। মার্কিন ও ভেনেজুয়েলার জনগণের স্বার্থে দেশটিতে দায়িত্বশীল ও স্বচ্ছ বিনিয়োগ উৎসাহিত করা হবে বলেও জানান তিনি।
সার্জেন্ট বহু বছর ধরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পাম বিচ গলফ কোর্স এবং ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের মধ্যে অবাধে চলাচল করতেন। সেখানে তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করেছেন — যিনি এখন মার্কিন হেফাজতে আছেন — এবং বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজসহ অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও দেখা করতেন। দুই দেশের মধ্যে বার্তা পৌঁছে দেওয়ার কাজে এই বিরল প্রবেশাধিকার কাজে লাগিয়েছেন তিনি। ২০২৫ সালে ভেনেজুয়েলায় আটক মার্কিন জিম্মিদের মুক্তিতেও ভূমিকা রেখেছেন। তবে রাজনৈতিক ঝুঁকি ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে বেশিরভাগ তেল কোম্পানি এড়িয়ে চলা দেশটিতে তিনি ব্যবসা গড়ে তুলেছেন।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে সার্জেন্টের ভেনেজুয়েলায় প্রভাব নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, "মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে কাজ করার কোনো কর্তৃত্ব তার নেই, কোনোভাবেই নেই, এবং স্টেট ডিপার্টমেন্ট দ্বারা অনুমোদিত নয় এমন আর কারও নেই।"




