রাজধানীর ডেমরায় অবস্থিত সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অসাধারণ ফলাফল অর্জন করেছে। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৯৯.৫৯ শতাংশে, আর মোট ৭৯৩ জন পরীক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়ে কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছে। সোমবার ফলাফল প্রকাশ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণ আনন্দ-উল্লাস আর মিষ্টি বিতরণের মধ্য দিয়ে মুখরিত হয়ে ওঠে। শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শিক্ষকমণ্ডলী সবাই এই সাফল্যে প্রবল উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।

শাখাভিত্তিক ফলাফলের দিকে তাকালে দেখা যায়, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৭৫৪ জন, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে ২৭ জন এবং মানবিক বিভাগ থেকে ১২ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। প্রতিষ্ঠানটির ইংলিশ ভার্সন শাখার দিকেও নজর দেওয়ার মতো বিষয় রয়েছে — সেখানে মোট ৯৮ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৭৮ জনই জিপিএ-৫ পাওয়ার গৌরব অর্জন করেছে।

বিজ্ঞান বিভাগের জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌসীর বাবা তরিকুল ইসলাম কন্যার এই সাফল্যে আবেগাপ্লুত। তিনি বলেন, সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজই তার মেয়ের জীবনে এমন অভাবনীয় সাফল্য এনে দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের ব্যাপারে কঠোর জবাবদিহি রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। নিয়মিত ক্লাসের পাশাপাশি অতিরিক্ত বিশেষ ক্লাসের কারণেই এই অভূতপূর্ব ফলাফল সম্ভব হয়েছে বলে তাঁর অভিমত।

ফলাফল ঘোষণার পর প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান মোল্লা এক অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন। তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের ওপর গভীর আস্থা ছিল বলেই এমন আকাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন সম্ভব হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা যেকোনো চ্যালেঞ্জ নিতে সাহস পায় — এটাই সবচেয়ে বড় শক্তি। ভবিষ্যতে তাদের অভিযাত্রা আরও বহুদূর এগিয়ে যাবে বলেও তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

এদিকে, এসএসসিতে কৃতী শিক্ষার্থীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মান্নানসহ অন্য সদস্যরা। প্রতিষ্ঠানটির ধারাবাহিক সাফল্যের ইতিহাসও উল্লেখযোগ্য — ২০২৫ সালে এসএসসিতে পাসের হার ছিল ৯৪.৬৪ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৬৩৫ জন। একই বছরের এইচএসসিতে পাসের হার ছিল ৯৯.৯১ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ অর্জন করেছিল ৪২৩ জন শিক্ষার্থী।