২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় এক চিত্র ফুটে উঠেছে — যা গত বছরের তুলনায় বেশ উদ্বেগজনক। সোমবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন দাখিল পরীক্ষায় এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার প্রায় ১৩ শতাংশীয় পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশে। গত বছর এই হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

পরীক্ষায় মোট ২ লাখ ৯৬ হাজার ৯৮২ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়, যার মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১ লাখ ৬৪ হাজার ৭৯৭ জন। ফলাফলে ছাত্রীদের সাফল্য ছাত্রদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি — ছাত্রীদের পাসের হার ৫৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ, অন্যদিকে ছাত্রদের পাসের হার ৫১ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

সর্বোচ্চ ফলাফলের সূচক জিপিএ-৫ প্রাপ্তির ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে পিছিয়ে যাওয়ার প্রবণতা। এবার মোট ৬ হাজার ৭১৬ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে, যার মধ্যে ছাত্র ৩ হাজার ৫৭২ জন ও ছাত্রী ৩ হাজার ১৪৪ জন। গত বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৯ হাজার ২০৬ জন — অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ পাওয়া পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে প্রায় আড়াই হাজার।

আরও একটি উদ্বেগজনক দিক হলো শূন্য পাসের মাদ্রাসার সংখ্যা বৃদ্ধি। এবার মোট ৯ হাজার ১৪১টি মাদ্রাসা থেকে শিক্ষার্থীরা দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ২২৬টি মাদ্রাসা থেকে কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। গত বছর এমন মাদ্রাসার সংখ্যা ছিল ৮৬টি — ফলে এক বছরের ব্যবধানে শূন্য পাসের মাদ্রাসার সংখ্যা বেড়েছে ১৪০টি।

উল্লেখ্য, একই দিনে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি ভোকেশনাল ও দাখিল ভোকেশনাল পরীক্ষার ফলাফলও প্রকাশ করা হয়েছে। দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে পাসের হার ও জিপিএ-৫ — দুই সূচকেই অবনতি ঘটায় শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। শূন্য পাসের মাদ্রাসার সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি একাদশ শ্রেণিতে প্রায় ১৩ লাখ ৬১ হাজার আসন খালি থাকার সম্ভাবনার কথাও বলা হচ্ছে।

পাসের হারে ঢাকা বোর্ড শীর্ষস্থান দখল করেছে — পাসের হার ও জিপিএ-৫ উভয় ক্ষেত্রেই। তবে সামগ্রিক ফলাফলে এই অবনতির কারণ খতিয়ে দেখা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।