রাশিয়ার ড্রোন যুদ্ধবিশেষজ্ঞদের বার্ষিক সমাবেশ ‘ড্রোননিতসা’-র লক্ষ্য এবার পরিবর্তিত হয়েছে। শুধু ইউক্রেনে জয়লাভ নয়, বরং ন্যাটোর সাথে এক বৃহৎ যুদ্ধের প্রস্তুতিকেই এই আয়োজনের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি কোনো আকস্মিক হুমকি নয়; বরং একটি কাঠামোবদ্ধ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ। এই সমাবেশে অংশগ্রহণকারী ড্রোন বিশেষজ্ঞ ও সামরিক কর্মকর্তারা নতুন কৌশল, প্রযুক্তি ও অপারেশনাল পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করছেন। বিশেষ করে ন্যাটো বাহিনীর সাথে সম্ভাব্য সংঘর্ষে ড্রোনের ভূমিকা ও প্রতিরোধ কৌশল নিয়ে জোর দেওয়া হচ্ছে। রুশ প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ন্যাটোর পূর্ব দিকে সম্প্রসারণ ও সামরিক উপস্থিতি রাশিয়ার জন্য একটি বড় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ড্রোন যুদ্ধের সক্ষমতা বৃদ্ধি করাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। সমাবেশে অংশ নেওয়া একজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা জানান, “আমরা কেবল বর্তমান যুদ্ধ নয়, ভবিষ্যতের যুদ্ধের জন্যও প্রস্তুতি নিচ্ছি। ন্যাটোর সাথে সম্ভাব্য সংঘর্ষ একটি বাস্তব সম্ভাবনা, এবং আমাদের সেই অনুযায়ী প্রস্তুত থাকতে হবে।” ড্রোননিতসায় প্রদর্শিত নতুন প্রযুক্তির মধ্যে রয়েছে স্বায়ত্তশাসিত ড্রোন ঝাঁক, জ্যামিং-প্রতিরোধী যোগাযোগ ব্যবস্থা ও দীর্ঘপাল্লার মনুষ্যবিহীন আকাশযান। এই প্রযুক্তিগুলো ন্যাটোর বিমান প্রতিরক্ষা ভেদ করতে সক্ষম বলে দাবি করা হচ্ছে। পাশ্চাত্যের সামরিক বিশেষজ্ঞরা এই উন্নয়নকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন এবং মনে করছেন, এটি ইউরোপের নিরাপত্তা ভারসাম্যকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করতে পারে।
ন্যাটোর বিরুদ্ধে বড় যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে রাশিয়ার ড্রোন যোদ্ধারা
রাশিয়ার বার্ষিক ড্রোননিতসা সমাবেশ এবার ইউক্রেনের বাইরে ন্যাটোর সাথে সম্ভাব্য বড় সংঘাতের প্রস্তুতিতে মনোযোগ দিচ্ছে। এটি কোনো হুমকি নয়, বরং একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।




