ওয়াশিংটন ডিসির জেলা আদালতের বিচারক স্পার্কল এল. সুকনানান এলন মাস্ক ও মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) মধ্যে হওয়া ১৫ লাখ ডলারের বন্দোবস্ত অনুমোদন করেছেন। তবে তিনি তার ১২ পৃষ্ঠার রায়ে স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই নিষ্পত্তির শর্ত ও প্রক্রিয়া নিয়ে তার ‘গুরুতর আপত্তি’ এবং ‘লাল পতাকা’ রয়েছে।

এসইসি ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে মাস্কের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়। সংস্থাটির অভিযোগ, মাস্ক ২০২২ সালে টুইটার (বর্তমানে এক্স) অধিগ্রহণের সময় শেয়ার কেনার আগে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রকাশ করেননি। নিয়ম অনুযায়ী, কোনো বিনিয়োগকারী কোনো কোম্পানির ৫ শতাংশ মালিকানা অতিক্রম করলে ১০ দিনের মধ্যে সে বিষয়ে প্রকাশ করতে বাধ্য। মাস্ক সেই নিয়ম মানেননি বলে অভিযোগ। এতে করে তিনি প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলারের শেয়ার ক্রয়ের সময় প্রায় ১৫০ মিলিয়ন ডলার সাশ্রয় করেন বলে কর্তৃপক্ষের দাবি।

বন্দোবস্তের আওতায় মাস্কের ট্রাস্টকে ১৫ লাখ ডলার জরিমানা দিতে হবে। মাস্ক নিজে ব্যক্তিগতভাবে কোনো অর্থ দেবেন না। বিচারক এই শর্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, কারণ এসইসি স্বীকার করেছে যে ‘সেকশন ১৩(ডি)’ লঙ্ঘনের জন্য ট্রাস্টের বিরুদ্ধে বন্দোবস্ত করার এটি প্রথম ঘটনা। সুকনানান মন্তব্য করেন, ট্রাস্টকে বন্দোবস্তের জন্য ‘অদ্ভুত’ প্রার্থী বলেই মনে হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, ট্রাস্টটি একটি রিভোকেবল ট্রাস্ট যা মূলত মাস্কের ব্রোকারেজ অ্যাকাউন্টের মতোই কাজ করে। এসইসির তথ্য অনুযায়ী, এই ট্রাস্ট টেসলার সবচেয়ে বড় শেয়ারহোল্ডার, যার মূল্য ১৮০ বিলিয়ন ডলারের বেশি।

বিচারক আরও উল্লেখ করেন, এসইসি প্রথমে মাস্কের কাছ থেকে ১৫০ মিলিয়ন ডলারের ডিসগর্জমেন্ট (অবৈধ লাভ ফেরত) চেয়েছিল। কিন্তু পরে সেই দাবি প্রত্যাহার করে নেয়। এর পরিবর্তে ১৫ লাখ ডলারের জরিমানা ধার্য করা হয়, যা সরকারি কোষাগারে যাবে। বিচারক এই পরিবর্তন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ডিসগর্জমেন্টের অর্থ মাস্কের বিরুদ্ধে অভিযোগে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের দেওয়া যেতে পারত। তাই তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘এটি হয়তো ন্যায্য, আবার নাও হতে পারে। কিন্তু এ থেকে বন্দোবস্তের যথার্থতা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।’

বন্দোবস্তের সময়গত দিকটিও বিচারকের নজর এড়ায়নি। ২০২৬ সালের মে মাসে এসইসি একটি সংশোধিত অভিযোগ দাখিল করে যেখানে মাস্কের ট্রাস্টকে বিবাদী করা হয়। তার তিন মিনিটের মধ্যে এসইসি ও মাস্কের পক্ষ থেকে কনসেন্ট জাজমেন্টের আবেদন করা হয়। সেই সময় মাস্ক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছিলেন। তিনি ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণায় মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার দান করেছিলেন এবং ডিওজিই-এর পক্ষে বিশেষ সরকারি কর্মচারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পরে মাস্ক ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে টেসলার প্রধান নির্বাহীর ভূমিকায় ফিরে আসেন। বিচারক উল্লেখ করেন, এসইসি জানিয়েছে যে মাস্ক নিজেই ব্যক্তিগতভাবে জরিমানা না দেওয়ার শর্ত চেয়েছিলেন এবং এসইসি এটি ‘সমঝোতা’ হিসেবে মঞ্জুর করে। তবে বিচারকের মতে, সংশোধিত অভিযোগ দাখিল ও বন্দোবস্ত অনুমোদনের এই সময়গত মিল অদ্ভুত।

সব আপত্তি সত্ত্বেও বিচারক বন্দোবস্ত অনুমোদন করেছেন। তিনি ব্যাখ্যা দেন, আদালত কেবলমাত্র মূল্যায়ন করতে পারে যে এই বন্দোবস্ত এতটাই অযৌক্তিক কিনা যা আদালতকে উপহাস করবে। তিনি বলেন, ‘এটা বলা নয় যে বন্দোবস্তটি নিতান্তই সাধারণ। এসইসির মাধ্যমে নির্বাহী শাখা মাস্কের অভিযুক্ত লঙ্ঘনের জন্য যথেষ্ট ব্যবস্থা নিয়েছে কিনা, তা অন্যান্য অনেক বিষয়ের মতো নাগরিকদের ভোটের মাধ্যমেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।’

এদিকে, মাস্ক বা এসইসির পক্ষ থেকে এই রায় নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ট্রাস্টের সাথেও যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। এই বন্দোবস্ত নিয়ে মার্কিন আইনি মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।