রোববার রাতে স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার ফাইনাল দিয়ে শেষ হবে ২০২৬ বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিকতা। শিরোপার পাশাপাশি দর্শকদের নজর রয়েছে ফিফা প্রদত্ত ব্যক্তিগত ও দলীয় পুরস্কারের দিকেও। টুর্নামেন্ট শেষে গোল্ডেন বুট, গোল্ডেন বল, গোল্ডেন গ্লাভস, সেরা তরুণ খেলোয়াড়, ফেয়ার প্লে এবং টুর্নামেন্টের সেরা গোলের পুরস্কার প্রদান করা হবে।
সর্বোচ্চ গোলদাতাকে দেওয়া গোল্ডেন বুটের জন্য এই মুহূর্তে এগিয়ে আছেন লিওনেল মেসি। তার গোল সংখ্যা ৮টি এবং অ্যাসিস্ট ৪টি। তার প্রতিদ্বন্দ্বী কিলিয়ান এমবাপ্পেও ৮ গোল করেছেন, তবে অ্যাসিস্ট ৩টি। গোল সংখ্যা সমান হলে অ্যাসিস্টের দিকে নজর দেওয়া হয়, ফলে বর্তমান টাইব্রেকার নিয়মে মেসি এগিয়ে। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত আর্লিং হলান্ড ৭ গোল, জুড বেলিংহাম ও হ্যারি কেইন ৬ গোল, উসমান দেম্বেলে ৫ গোল ও ২ অ্যাসিস্ট এবং মিকেল ওইয়ারসাবাল ৫ গোল ও ১ অ্যাসিস্ট করেছেন।
টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়কে দেওয়া হয় গোল্ডেন বল। ১৯৭৮ সালে চালু হওয়া এই পুরস্কার অনেক সময় ফাইনালে হেরে যাওয়া দলের খেলোয়াড়ও জিতেছেন। মেসি ইতিমধ্যে দুইবার এই পুরস্কার জিতে একমাত্র ফুটবলার হিসেবে রেকর্ড গড়েছেন। এবারও তার নাম সম্ভাব্য দাবিদারদের তালিকার শীর্ষে রয়েছে। এছাড়াও স্পেনের রদ্রি ও ওইয়ারসাবাল, ফ্রান্সের এমবাপ্পে ও মাইকেল ওলিসে, ইংল্যান্ডের কেইন ও বেলিংহাম, নরওয়ের হলান্ড এবং কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার নামও আলোচনায় রয়েছে।
গোল্ডেন গ্লাভস বা সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কারের দৌড়ে সবার উপরে রয়েছেন স্পেনের উনাই সিমন। এখন পর্যন্ত ৭ ম্যাচে তিনি মাত্র একটি গোল হজম করেছেন। অন্যদিকে কেপ ভার্দের ভোজিনিয়া তার অসাধারণ সেভ দিয়ে সকলের নজর কেড়েছেন। তবে তার দল শেষ ৩২ থেকে বাদ পড়ায় পুরস্কার পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ইংল্যান্ডের জর্ডান পিকফোর্ড, প্যারাগুয়ের অরলান্ডো গিল, পর্তুগালের দিওগো কস্তা, সুইজারল্যান্ডের গ্রেগর কোবেল, মরক্কোর ইয়াসিন বুনু ও মিসরের মোস্তফা শোবেইরও এই পুরস্কারের দাবিদার।
অনূর্ধ্ব-২১ বছর বয়সী খেলোয়াড়দের জন্য ইয়াং প্লেয়ার পুরস্কার দেওয়া হয়। এবারের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন স্পেনের লামিনে ইয়ামাল ও পাউ কুবারসি। এছাড়া ফ্রান্সের দেজিরে দুয়ে, ইংল্যান্ডের নিকো ও’রাইলি এবং মরক্কোর আইয়ুব বুয়াদ্দিও ভালো করছেন। ফেয়ার প্লে পুরস্কারের জন্য স্পেন, ফ্রান্স ও নরওয়ের নাম শোনা যাচ্ছে।
টুর্নামেন্টের সেরা গোল নির্ধারণে ভোট দিচ্ছেন দর্শকরা। ছয়টি গোলকে চূড়ান্ত তালিকায় রাখা হয়েছে। এগুলো হলো—কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর বিপক্ষে এমবাপ্পের গোল, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপের গোল, নরওয়ের বিপক্ষে বেলিংহামের গোল, সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে হুলিয়ান আলভারেজের গোল, সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে পেদ্রো পোরোর গোল এবং ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এনজো ফার্নান্দেজের গোল। ফাইনাল শুরুর আগেই বিজয়ী ঘোষণা করা হবে।
গ্রুপ পর্বের সেরা গোলের পুরস্কার পেয়েছেন উজবেকিস্তানের এলদর শোমুরোদভ, শেষ ৩২-এর সেরা গোল কেপ ভার্দের সিডনি লোপেস কাবরাল এবং শেষ ষোলোর সেরা গোল নরওয়ের আর্লিং হলান্ডের।

