গবেষণার কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু ক্যাম্পাসে সীমিত কম্পিউটিং সম্পদ নিয়ে প্রতিযোগিতা আর বাইরের ঘণ্টাভিত্তিক সেবার খরচ ও গোপনীয়তার জটিলতা—এই দুই সমস্যার সমাধানে নতুন পথ দেখাচ্ছে একটি স্টার্টআপ। নিউ ইয়র্কভিত্তিক প্রতিষ্ঠান B3IQ গবেষকদের জন্য ডেডিকেটেড জিপিইউ হার্ডওয়্যার কিস্তিতে কেনার সুযোগ করে দিচ্ছে, যা গোপনীয়তা ও বাজেটের চাপ দুটোই কমিয়ে দেয়।
হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের পিএইচডি শিক্ষার্থী পাভেল বুশুয়েউ। প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের বংশোদ্ভূত মানুষের ত্বকের ক্যান্সার নিয়ে কাজ করছেন তিনি। এআই ব্যবহার করে গবেষণা ত্বরান্বিত করতে গিয়ে পরিচিত প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হন — বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমিত কম্পিউটিং সংস্থান পেতে অন্যদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হয়। অন্যদিকে বাইরের ঘণ্টাভিত্তিক কম্পিউট সেবা ব্যবহারে খরচ ও গোপনীয়তার জটিলতা রয়েছে। এই অবস্থায় চলতি বছরের শুরুর দিকে B3 ল্যাবসের সন্ধান পান তিনি। প্রতিষ্ঠানটি B3IQ ব্র্যান্ডের অধীনে ডেডিকেটেড জিপিইউ হার্ডওয়্যার কিস্তিতে কেনার ব্যবস্থা রাখে। গ্রাহকদের ৩০ শতাংশ অগ্রিম দিতে হয়, বাকি অর্থ পাঁচ বছরে সমান কিস্তিতে পরিশোধ করা যায়। এনভিডিয়ার অত্যাধুনিক এইচ২০০ মেশিনের দাম শুরু হচ্ছে ৫৪ হাজার ৫১৬ ডলার থেকে।
বুশুয়েউর মতে, এই ব্যবস্থা গবেষকদের জন্য বিশেষভাবে আকর্ষণীয়। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা অনুদান ব্যবস্থায় প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারিত থাকা প্রয়োজন। ভাড়া নেওয়া কম্পিউটিং সেবায় দাম ওঠানামা করলে সেই শর্ত পূরণ কঠিন হয়ে পড়ে। দ্বিতীয় সুবিধাটি গোপনীয়তা সংক্রান্ত। নিজস্ব মেশিন থাকলে গবেষকরা স্বাস্থ্য সংক্রান্ত আইন এইচআইপিএএ মেনে চলতে পারেন। সেই সঙ্গে বিদেশি কম্পিউটিং সেবা ব্যবহারে নিয়ন্ত্রক বা জাতীয় নিরাপত্তার যে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে, তাও এড়ানো যায়।
ব্যবহারিক ক্ষেত্রে গ্রাহকরা মেশিনটি নিজেদের জায়গায় স্থাপনের ব্যবস্থা করতে পারেন। তবে বেশি সুবিধাজনক হলো, ওরেগনের ২৭ হাজার বর্গফুটের সুবিধায় মেশিনটি হোস্ট করার অনুরোধ জানানো। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সরিয়ে নেওয়ার তথ্যের ভিত্তিতে সিমুলেশন তৈরি এবং জাতীয় পর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনার মডেল তৈরিতে তাদের সরবরাহ করা কম্পিউট ব্যবহার করছেন। স্ট্যানফোর্ড ও ডার্টমাউথের শিক্ষক-গবেষকও গ্রাহকের তালিকায় রয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্রয় অফিসের সঙ্গে পাইকারি ভিত্তিতে সেবা দেওয়ার বিষয়ে আলোচনাও চলছে।
B3IQ-এর এই ব্যবসা মডেল কিন্তু শুরু থেকেই ছিল না। ২০২৪ সালে ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রতিষ্ঠান কয়নবেসে কাজ করার সময় পরিচিত তিন সহ-প্রতিষ্ঠাতা — ড্যারিল জু, ভিক্টোরিয়া হিয়াং ও শন গেং — ভিডিও গেমের দিকে মন দিয়ে কোম্পানিটি শুরু করেছিলেন। সিইও ড্যারিল জুর ভাষ্য, তারা তিনজনই মূলত প্রযুক্তিপ্রেমী। গেমিংকে ক্রিপ্টো থেকে স্বাভাবিক পরবর্তী ধাপ হিসেবে দেখেছিলেন। কিন্তু ২০২৫ সালের শুরুর দিকে ব্যবসা গোছানোর চেষ্টার সময় তারা দেখেন, গেমিং কনসোল ও এআই মেশিনের মূল উপাদান জিপিইউ চিপের জন্য সবাই প্রতিযোগিতা করছে।
জু বলেন, এআই কম্পিউটের চাহিদা দ্রুত বাড়ছিল। জিপিইউয়ের দাম এত বেশি হওয়ায় অনেক গেমিং গ্রাহক ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছিলেন। তখনই তারা নতুন সম্ভাবনা দেখতে পান। তাদের পুরোনো পদ্ধতিতেই কাজ করেন — উল্লম্ব নির্মাণ, অর্থাৎ এআই ক্ষেত্রে সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার দুটোই তৈরি করা। এর ফলেই জিপিইউচালিত মেশিন তৈরিতে দক্ষতা অর্জন করেন তারা, যা ওরেগনের ডেটা সেন্টার পরিচালনার মাধ্যমে আরও পরিণত হয়। এখন B3IQ চাহিদা অনুযায়ী জিপিইউ রিগ তৈরি করার পাশাপাশি পুরোনো মেশিনে নতুন চিপ বসানো বা অতিরিক্ত কম্পিউট যুক্ত করার সেবাও দেয়।
জিপিইউ মেশিন কেনার বিকল্প দিতে B3IQ একমাত্র প্রতিষ্ঠান নয়। অ্যামাজনের মতো বড় সেবাদাতারা ঘণ্টাভিত্তিক কম্পিউট দেয়, ভাস্ট.এআই-এর মতো কোম্পানিও দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের ব্যবস্থা রাখে। তবে গবেষকদের গোপনীয়তা ও বাজেটের উদ্বেগের কথা বিবেচনা করে এমন ব্যবস্থা দেওয়ায় B3IQ নিজেদের জন্য আলাদা জায়গা তৈরি করে নিচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, মেশিনের মালিকরা একটি ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে অব্যবহৃত কম্পিউটিং ক্ষমতা অনুমোদিত তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রির ব্যবস্থাও করতে পারেন।
প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৩০ জন কর্মী রয়েছে। সিইও জুর মতে, চলতি বছর ৫ কোটি ডলার রাজস্ব আয়ের পথে রয়েছে তারা। প্যান্টেরা ও কয়নবেস ভেঞ্চারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ২ কোটি ১০ লাখ ডলার বিনিয়োগ পেয়েছে কোম্পানিটি। আগামী বছরের মধ্যে বড় আকারের সিরিজ এ বিনিয়োগ রাউন্ড সম্পন্ন করার পরিকল্পনাও চলছে।




