ইউক্রেনে চলমান সংঘাতের জের ধরে বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্র এখন নিজেদের গোয়েন্দা উপগ্রহ তৈরির প্রতিযোগিতায় নেমেছে। মহাকাশ প্রযুক্তি খাতের এক শীর্ষ নির্বাহীর মতে, যুদ্ধ পরিচালনায় মহাকাশ-ভিত্তিক গোয়েন্দা তথ্যের ওপর নির্ভরতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে একে আর উপেক্ষা করার উপায় নেই।
আধুনিক যুদ্ধকৌশলের একটি অপরিহার্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সংগ্রহ করা গোয়েন্দা তথ্য। ফলে সরকারগুলো নিজ নিজ উপগ্রহ সক্ষমতা সম্প্রসারণে তৎপর হয়ে উঠেছে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহীর ভাষ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনের সংঘাতই মূলত এই প্রতিযোগিতাকে ত্বরান্বিত করেছে — কারণ সেখানে যুদ্ধক্ষেত্রে উপগ্রহ-নির্ভর গোয়েন্দা তথ্যের কার্যকারিতা স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে এই নতুন প্রতিযোগিতা ভবিষ্যতে মহাকাশ প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের ধারা বদলে দেবে। যেসব দেশ আগে বাণিজ্যিক বা গবেষণামূলক উদ্দেশ্যে উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করত, তারা এখন সামরিক প্রয়োজনে গোয়েন্দা উপগ্রহ নির্মাণে আগ্রহী হচ্ছে। নির্বাহীর মতে, এই ধারা কেবল বড় শক্তিগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না — ছোট ও মাঝারি আকারের দেশগুলোর মধ্যেও ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ছে।
দীর্ঘমেয়াদে এই প্রবণতা বৈশ্বিক নিরাপত্তা কাঠামোতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে মহাকাশে সামরিক উপস্থিতি বাড়লে নতুন ধরনের সংঘাতের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন পর্যবেক্ষকরা। প্রযুক্তি খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উপগ্রহনির্মাণের ব্যয় কমতে থাকায় আগামী দিনগুলোতে আরও বেশি দেশ নিজস্ব মহাকাশ সক্ষমতা গড়ে তুলতে চাইবে।




