গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বুধবার (৫ আগস্ট) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস মন্তব্য করেছেন, জুলাই প্রমাণ করেছে যে, জাতির সব স্তরের মানুষ যখন ঐক্যবদ্ধ হয়, তখন অত্যন্ত মজবুত বলে প্রতীয়মান কাঠামোগুলোও রূপান্তরিত হতে পারে। ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ স্মরণে দেওয়া বক্তব্যে তিনি জুলাইকে জনগণের অধিকার, ন্যায়বিচার এবং গণতান্ত্রিক প্রত্যাশার এক তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে অভিহিত করেন।

নোবেলজয়ী এই অর্থনীতিবিদ তাঁর বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, "আমাদের স্মৃতিতে জুলাই দীর্ঘ, ৩৬ দিনের মাস। জুলাইয়ে আমরা আবারও স্মরণ করি কী ভীষণ শক্তি নিয়ে এ জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে।" এ প্রসঙ্গে তিনি ওই গণঅভ্যুত্থানে জীবন উৎসর্গকারী প্রতিটি শহীণের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। যেসব ব্যক্তি সে সময় আহত হয়েছেন, দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন অথবা পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, প্রতিও তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অধ্যাপক ইউনূস জোর দিয়ে বলেন, জুলাই ছিল সর্বস্তরের ও সর্বশ্রেণির মানুষের। এটা ছিল স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা এবং পাবলিক-প্রাইভেটসহ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সেই সব শিক্ষার্থীর, যারা সরাসরি রাজপথে নেমে এসেছিল। শিক্ষক ও অভিভাবকদের যারা ছাত্রদের পাশে দাঁড়িয়ে সমর্থন জুগিয়েছিলেন, তারাও এই অর্জনের অংশীদার। তিনি বিশেষ করে সেসব সাংবাদিক, আলোকচিত্রী ও সাধারণ পথচারীকে স্মরণ করেন, যারা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সত্য ঘটনা বিশ্বদরবারে তুলে ধরেছিলেন।

তিনি আরও বলেন, রাজনীতিবিদ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, লেখক, শিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা তাঁদের সুর ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে এই আন্দোলনে শক্তি সঞ্চার করেছিলেন। রিকশাচালক, দিনমজুর, পেশাজীবী—প্রত্যেকেই যার যার অবস্থান থেকে অংশ নিয়েছিলেন। যুদ্ধের মতো সৃষ্ট পরিস্থিতির মধ্যে চিকিৎসকেরা চরম ঝুঁকি নিয়ে আহতদের প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা চালিয়েছেন। তাছাড়া, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিরা তাঁদের সমর্থন ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছেন।

জুলাইয়ের নারীদের অসীম সাহসিকতার প্রশংসা করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, সেই লড়াই আগামী প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে দেশের নারীদের অনুপ্রাণিত করবে এবং তরুণদের মনোবল বাড়াবে। শিক্ষার্থীদের অনন্য নেতৃত্বকেও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য চিরস্থায়ী অনুকরণীয় উৎস হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।

শেষে অধ্যাপক ইউনূস দেশবাসীকে দৃঢ় সংকল্প গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, "এক ঐক্যবদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে আমরা যে গণতান্ত্রিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রযাত্রা আরম্ভ করেছি, তা ধরে রাখতে হবে।"

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগে বাধ্য হন। এর তিন দিন পর, ৮ আগস্ট, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার শপথ গ্রহণ করে।