নওগাঁ জেলার ধামইরহাট উপজেলার আগ্রাদ্বিগুণ ইউনিয়নের তালপুকুর মাহমুদপুর গ্রামের একটি আমবাগান থেকে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পুলিশ একটি ৪৫ বছর বয়সী গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে। পরদিন বুধবার রাতে অভিযুক্ত হিসেবে সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল হোসেন (৪৬) ও তাঁর সহযোগী তারেক রহমানকে (২১) আটক করে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দুজনই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

বৃহস্পতিবার বিকেলে নওগাঁর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম তাঁর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, গ্রেপ্তারকৃত বাবুল হোসেন ধামইরহাট সদর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য। নিহত নারীর স্বামী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য দুজন সহযোগীকেও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নিহতের স্বামী ও ছেলে কুমিল্লায় বসবাস করেন। তিনি ঘরের কাজকর্ম সামলানোর পাশাপাশি গরু লালন-পালন করতেন এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে গরুর দুধ বিক্রি করতেন। এই সূত্রেই সাবেক ইউপি সদস্য বাবুল হোসেনের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ঘটে। পরবর্তীতে দুজনের মধ্যে মুঠোফোনে নিয়মিত কথাবার্তা হতে থাকে এবং ধীরে ধীরে তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে ওই নারী বাবুলের সঙ্গে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকলে তিনি তাঁকে বিয়ের আশ্বাস দেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার দুপুরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি পেয়ে ওই গৃহবধূ নিজ বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। বাবুল তাঁর এক সহযোগীকে শাহপুর মোড়ে পাঠান নারীকে নিয়ে আসার জন্য। সেখান থেকে তাঁকে রাত আনুমানিক ১০টার দিকে আগ্রাদ্বিগুণ বাজারে আনা হয়। সেখানে বাবুল উপস্থিত হন। এরপর মোটরসাইকেল ও অটোরিকশায় করে তাঁরা তালপুকুর মাহমুদপুর গ্রামের ভলকাডাঙ্গা মাঠের একটি আমবাগানে পৌঁছান।

ওই আমবাগানে পৌঁছানোর পর বাবুলের নির্দেশে আসামি তারেক রহমান ও অপর এক সহযোগী গৃহবধূর গলায় বেল্ট পেঁচিয়ে টান দেন। শ্বাসরোধে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর অভিযুক্তরা আশপাশ থেকে খড়খুটো সংগ্রহ করেন। পরে তাঁর শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে দেন। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে।

ঘটনার শুরুতে পুলিশের কাছে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য ছিল না। তবে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, স্থানীয় পর্যায়ে নিবিড় তদন্ত এবং ডেটা বিশ্লেষণের মাধ্যমে কয়েকজনকে সন্দেহের আওতায় আনে পুলিশ। গত বুধবার দিবাগত রাতে উপজেলার মড়ইল গ্রামে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত বাবুল মেম্বারকে তাঁর নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই গ্রামের বাসিন্দা তারেক রহমানকেও গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন। হত্যাকাণ্ডে জড়িত বাকি দুজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম আরও জানান, তথ্যপ্রযুক্তি ও মাঠপর্যায়ের তদন্তের সমন্বয়ে দ্রুতই ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ চিত্র বেরিয়ে এসেছে এবং বাকি অভিযুক্তদের শিগগিরই আইনের আওতায় আনা হবে।