যশোর নগরীর বারান্দীপাড়া বউবাজার এলাকায় বসবাসকারী ২৮ বছর বয়সী আল আমিন পেশায় সোনার গয়না তৈরির কারিগর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে শহরের বারান্দীপাড়া লিচুতলা এলাকায় তাঁকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছানো পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বর্ণনা অনুসারে, অজ্ঞাত কয়েকজন ব্যক্তি প্রথমে তাঁর চোখে-মুখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে তাঁকে দুর্বল করে ফেলে। এরপর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে দুর্বৃত্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে চলে যায়। বেলা চারটার দিকে এলাকাবাসী তাঁকে রক্তাক্ত ও নিস্তেজ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে দ্রুত থানায় খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুম খান প্রথম আলোকে জানান, প্রাথমিক তদন্তে হত্যার ধরন পর্যবেক্ষণ করে এটি পূর্বপরিকল্পিত বলে মনে হচ্ছে। সুরতহাল প্রতিবেদনে নিহতের চোখ ও মুখে মরিচের গুঁড়ার স্পষ্ট চিহ্ন পাওয়া গেছে। শরীরের নানা স্থানে ধারালো অস্ত্রের গভীর ক্ষতচিহ্ন বিদ্যমান।
পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে যে আল আমিন নিজেও এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। ওসি মাসুম খান আরও উল্লেখ করেন, তাঁর বিরুদ্ধে মারামারি, চাঁদাবাজি ও মাদক-সম্পর্কিত অন্তত চারটি মামলা রেকর্ডভুক্ত আছে।
কারা এবং ঠিক কী উদ্দেশ্যে এই হামলা চালিয়েছে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। একই সঙ্গে নিহতের সঙ্গীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে; দীর্ঘদিনের পূর্বশত্রুতার জেরেই এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে। এ সংক্রান্ত একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।




