রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় বালুর চাতালকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় প্রায় পঞ্চাশটি পরিবার চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছে। বালু খালাসের সময় পাইপ থেকে বের হওয়া বিপুল পরিমাণ পানি আশপাশের এলাকায় জমে যাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বালুর স্তূপ থেকে পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় সারাবছরই এখানে পানি জমে থাকে। বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

ভুক্তভোগী গৃহবধূ পপি বেগমের ভাষ্য, চাতালের পানিতে চারপাশ ডুবে গেছে। টিউবওয়েল ও পায়খানা পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে। চুলায় পানি ওঠায় রান্নাবান্নাও বন্ধ হয়ে গেছে বলে তিনি জানান। আরেক বাসিন্দা নিয়ামত আলী সরদার বলেন, তিনি ১২ বছর ধরে এখানে বসবাস করছেন। আগে বৃষ্টির পানি ছোট ডোবা দিয়ে নেমে যেত, কিন্তু দুই বছর আগে বালুর চাতাল স্থাপনের পর থেকে সারা বছরই পানি জমে থাকে। চাতালের পানিতে তাঁদের বাড়িঘর প্লাবিত হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

জলাবদ্ধতার প্রতিবাদে গত রোববার সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত দৌলতদিয়া বাইপাস সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন ভুক্তভোগীরা। বৃষ্টি উপেক্ষা করে এ বিক্ষোভে অংশ নেন এলাকার নারী-পুরুষ। এতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলগামী বিভিন্ন যানবাহন ফেরি থেকে নেমে সড়কে আটকা পড়ে। পরে পুলিশের আশ্বাসে তাঁরা অবরোধ তুলে নেন।

স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, উপজেলা শ্রমিক দলের এক নেতাসহ সরকারি দলের স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি এই বালুর চাতাল থেকে বালু বেচাকেনা করেন। অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি সরোয়ার মোল্লা বলেন, বাল্কহেড থেকে পাইপে বালু খালাসের সময় কিছু পানি বের হয়। পাশের বড় গর্তে সেই পানি জমিয়ে সেচ পাম্পের মাধ্যমে অপসারণ করা হয়। তিনি দাবি করেন, মূলত ভারী বৃষ্টির কারণেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে এবং দ্রুত পানি অপসারণের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

রোববার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, দৌলতদিয়া বাইপাস সড়ক থেকে ৭ নম্বর ফেরিঘাট পর্যন্ত ছাত্তার মেম্বারপাড়ায় প্রায় ৫০টি পরিবার বসবাস করে। বাইপাস সড়ক ও ৭ নম্বর ফেরিঘাট সড়কের পাশে গড়ে উঠেছে একাধিক বালুর চাতাল। বিভিন্ন এলাকা থেকে বালুবাহী বাল্কহেড ৬ নম্বর ফেরিঘাটে ভিড়িয়ে পাইপের মাধ্যমে বালু খালাস করা হয়। পরে সেই বালু সড়কের পাশে স্তূপ করে বিক্রি করা হয়।

এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস বলেন, রোববার বিকেলে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন। বালুর চাতাল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার পাশাপাশি দ্রুত পানিনিষ্কাশনের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।