মিক্সড মার্শাল আর্টসের অন্যতম জনপ্রিয় আসর ইউএফসির বেলগ্রেড ইভেন্টে এক নৃশংস নকআউটের শিকার হওয়ার পর চিরতরে অক্টাগন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন নারী যোদ্ধা হেইলি কোয়ান। বুধবার অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে প্রথম রাউন্ডেই নিনা মিলোসেভিচের আঘাতে কোয়ান পরাভূত হন। মাত্র ৩৪ বছর বয়সেই নিজের অবসরের ঘোষণা দিলেন এই যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লাইহোয়েট ফাইটার।

ম্যাচ চলাকালে সার্বিয়ান প্রতিপক্ষ নিনা মিলোসেভিচ একের পর এক শক্তিশালী পাঞ্চ ছুড়ে দেন কোয়ানের শরীরে। এই ধারাবাহিক বডি শটের যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মতো শারীরিক সক্ষমতা হারান ফেলেন হেইলি কোয়ান। রেফারি দ্রুত লড়াই থামিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং মিলোসেভিচের হাত তুলে বিজয়ী ঘোষণা করেন। এই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বোনাস অর্জনের কৃতিত্বও উঠেছে তার হাতে।

পরাজয়ের পরপরই তিনি মিডিয়ার সামনে তার এই কঠোর সিদ্ধান্তের কথা জানান। দীর্ঘদিনের ক্যারিয়ার শেষ করার বিষয়টি তার জন্য সহজ ছিল না বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। হেইলি কোয়ানের এই আকস্মিক বিদায় ভক্তদের মনে কিছুটা হলেও হতাশার সৃষ্টি করেছে, তবে অনেকেই তার ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, দর্শনীয় এই জয়ের মাধ্যমে নিনা মিলোসেভিচ ইউএফসি সার্কিটে নিজের অবস্থান আরও মজবুত করে তুললেন। তার এই আক্রমণাত্মক লড়াইয়ের ধরন আগামী দিনে তার ক্যারিয়ারকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে তিনি কোন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অক্টাগনে ফিরছেন, সেটাই এখন দেখার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কোয়ানের অবসর গ্রহণের ফলে ইউএফসির নারী ফ্লাইটওয়েট বিভাগে একটি শূন্যতা তৈরি হলো। তার সমর্থকরা এখন মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন, কারণ এই পরাজয়ের আগে তার লড়াইয়ে ফেরার সম্ভাবনা উজ্জ্বল ছিল। তা সত্ত্বেও নিজের দেহ ও মনের সীমাবদ্ধতার কথা মাথায় রেখেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।