কণা পদার্থবিজ্ঞানের জগতে এক যুগান্তকারী আবিষ্কারের দাবি উঠেছে। প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে যে কণার সন্ধানে গবেষণা চলছিল, অবশেষে তার অস্তিত্ব প্রমাণিত হয়েছে। কোয়ান্টাম ক্রোমোগতিবিদ্যার তত্ত্ব অনুযায়ী, কোয়ার্ক ও গ্লুওনের মিথস্ক্রিয়াই দৃশ্যমান পদার্থের মূল ভিত্তি। কোয়ার্ক হলো মৌলিক কণা, যাদের তিনটি মিলে গঠিত হয় প্রোটন ও নিউট্রনের মতো কণা। অন্যদিকে, গ্লুওন হলো শক্তির বাহক, যা কোয়ার্কদের একত্রে আবদ্ধ রাখে। এই গ্লুওন দিয়েই তৈরি হওয়া কণাই গ্লুবল, যার অস্তিত্ব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা চলছিল।

সম্প্রতি চীনের বেইজিংয়ে অবস্থিত একটি কোলাইডারে কর্মরত আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানীদের দল জানিয়েছে, এক্স(২৩৭০) নামে পরিচিত একটি কণার অভ্যন্তরে তারা গ্লুবল কণার উপস্থিতি শনাক্ত করতে পেরেছেন। উচ্চশক্তির সংঘর্ষের ফলে সৃষ্ট ধ্বংসাবশেষ বিশ্লেষণ করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন তারা। উল্লেখ্য, গ্লুবল হলো প্রকৃতিতে পাওয়া একমাত্র কণা, যা সম্পূর্ণরূপে বলবাহক কণা দিয়ে তৈরি। এই কণা কোয়ার্কের মধ্যে তীব্র মিথস্ক্রিয়া ঘটায় এবং প্রোটন-নিউট্রনকে আবদ্ধ রেখে পরমাণুর নিউক্লিয়াস গঠন করে।

নানজিং বিশ্ববিদ্যালয়ের কণা পদার্থবিজ্ঞানী জিন শান এই আবিষ্কারকে পদার্থের অভূতপূর্ব রূপ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, এটি শুধু তীব্র মিথস্ক্রিয়া সংক্রান্ত তত্ত্বকে কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন করবে না, বরং আমাদের ভৌত জগৎ সম্পর্কে ধারণার পরিধিও বাড়িয়ে দেবে। বিজ্ঞানীরা জানান, কণাগুলোকে প্রায় আলোর গতিতে সংঘর্ষ ঘটালে বিস্ফোরণের মাধ্যমে কিছু স্বল্পস্থায়ী উপজাত তৈরি হয়। এর মধ্যে জে/সাই মেসন কণা অন্যতম, যা দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। এই ক্ষয় প্রক্রিয়াই গ্লুবল অনুসন্ধানের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

দীর্ঘ কয়েক দশক ধরেই কোলাইডারগুলোর মূল লক্ষ্য ছিল গ্লুবল খুঁজে বের করা। ২০২৪ সালে ফিজিক্যাল রিভিও লেটার্স সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় ১ হাজার কোটি মেসন ক্ষয় বিশ্লেষণ করে এক্স(২৩৭০) কণার ভর ও স্পিন প্যারিটি প্রথমবারের মতো সঠিকভাবে পরিমাপ করা হয়। তত্ত্বীয় ধারণার সঙ্গে পরীক্ষাগারের এই পরিমাপ সম্পূর্ণ মিলে যায়। ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক উচ্চশক্তি পদার্থবিজ্ঞান সম্মেলনে গবেষণার এই ফলাফল উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, এক্স(২৩৭০) কণার মূল ভিত্তিই হলো গ্লুবল। ২০১১ সালে বেইজিং স্পেকট্রোমিটার ৩ প্রথম এই কণার সন্ধান পায়। চীনের একাডেমি অব সায়েন্সের ইনস্টিটিউট অব হাই এনার্জি ফিজিকসের বেইজিং ইলেকট্রন-পজিট্রন কোলাইডার ২ ব্যবহার করে এই পরীক্ষা পরিচালিত হয়, যেখানে ইলেকট্রন ও পজিট্রনের সংঘর্ষ ঘটিয়ে পদার্থবিজ্ঞানের জটিল রহস্য উন্মোচনের চেষ্টা চলে।