স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনা তাদের আক্রমণভাগের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আতলেতিকো মাদ্রিদের আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড জুলিয়ান আলভারেজকে দলে টানতে আগ্রহ প্রকাশ করলেও, আর্থিক দিক থেকে কোনো রকম নমনীয়তা দেখাতে নারাজ ক্লাবটি। ক্লাব নীতিনির্ধারকেরা স্থির করেছেন যে আলভারেজের জন্য ১০০ মিলিয়ন ইউরোর যে দর প্রস্তাবিত হয়েছে, তার এক পয়সাও বাড়ানো হবে না। অন্যদিকে, আতলেতিকো মাদ্রিদ তাদের প্রধান অস্ত্র হিসেবে বিবেচিত এই তারকাকে এই মূল্যে ছেড়ে দিতে সম্পূর্ণরূপে অনিচ্ছুক।
কাতালান গণমাধ্যম ‘মুন্দো দেপোর্তিভো’র এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এই জটিল পরিস্থিতি ঘিরে ন্যু ক্যাম্পে কোনোপ্রকার তাড়াহুড়া নেই। কর্তৃপক্ষের ধারণা, হান্সি ফ্লিকের আক্রমণভাগে বর্তমানে যথেষ্ট গভীরতা বিদ্যমান। ইংলিশ তারকা অ্যান্থনি গর্ডন এবং জার্মানির কারিম আদিয়েমির আগমনের ফলে আক্রমণভাগ অনেকটাই মজবুত হয়েছে। একইসঙ্গে, ফেরান তোরেস, দানি ওলমো এবং রাফিনিয়ার মতো খেলোয়াড়েরা প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় ফরোয়ার্ডের ভূমিকা পালনে সক্ষম।
যদিও কোচ হান্সি ফ্লিক ব্যক্তিগতভাবে আলভারেজকে পেতে অত্যন্ত আগ্রহী বলে জানা গিয়েছে, তবুও ক্লাবের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এই জটিল সমীকরণে কোনো আকস্মিক সিদ্ধান্তের পক্ষে নন। আতলেতিকোর কঠোর অবস্থান বিবেচনায় রেখে তাঁরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করাকেই সমীচীন মনে করছেন।
বার্সেলোনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কযুক্ত সাংবাদিক আশরাফ বেন আইয়াদ তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলে এই পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে লেখেন, কাতালান ক্লাবটি এখন পুরোপুরি উপলব্ধি করেছে যে আতলেতিকো তাদের অবস্থান থেকে এক চুল নড়বে না। ফলে পুরো বিষয়টি এখন নির্ভর করছে স্বয়ং আলভারেজের ওপর। আশরাফের ভাষ্য অনুযায়ী, 'বল এখন পুরোপুরি আলভারেজের কোর্টে'। যদি এই আর্জেন্টাইন তারকা ক্যাম্প ন্যুতে পাড়ি দেওয়ার জন্য ব্যক্তিগত উদ্যোগে মাদ্রিদের ক্লাবটির ওপর সরাসরি চাপ প্রয়োগ করেন, তবেই কেবল এই দলবদলটি বাস্তবায়িত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। আপাতত দর-কষাকষির এই অচলাবস্থায় সকলের দৃষ্টি নিবদ্ধ আছে আলভারেজের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।




