ভারতীয় ক্রিকেট দলে আসা-যাওয়ার এই অনিশ্চয়তায় ক্লান্ত সঞ্জু স্যামসন। দীর্ঘদিন ধরে দলে জায়গা পাওয়া, বাদ পড়া এবং পুনরায় ফিরে আসা—এই চক্র থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। নিজের ভাষায়, আর কোনো ‘ইঁদুরদৌড়ে’ থাকতে চান না এই উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান। বর্তমানে তিনি ক্রিকেট খেলতে চান নিজের ইচ্ছামতো, নিজের সিদ্ধান্তেই।
বার্তা সংস্থা আইএএনএস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্যামসন জানান, দেশে সবসময়ই এক ধরনের প্রতিযোগিতা চলতে থাকে। তাই ২০২৬ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের আগেই তিনি স্থির করে ফেলেন যে এই দৌড়ের অংশ হবেন না। শুধু খেলাটা উপভোগ করাই তার মূল লক্ষ্য। ৩১ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারের মতে, ভাগ্যের সহায়তায় ইতিমধ্যেই অনেক কিছু অর্জন করেছেন। সামনে আরও কয়েক বছর খেলার সুযোগ আছে, তাই নিজের মতো করেই খেলতে চান। কেউ যেন তাকে না বলে দেয় কীভাবে ব্যাট করতে হবে বা কী করতে হবে—সঞ্জু কী করবে, তা সঞ্জুই ঠিক করবে।
স্যামসন আরও বলেন, তিনি সবাইকে যথাযথ সম্মান দিয়ে খেলবেন, খেলাটা উপভোগ করবেন, ভালো সতীর্থ হওয়ার চেষ্টা করবেন এবং দলকে সমর্থন দেবেন। তবে সবকিছুই করবেন নিজের মতো করে। চলতি বছরের শুরুতে ভারতের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন স্যামসন। টানা তিনটি ফিফটি করে টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কারও জিতেছিলেন তিনি। কিন্তু জুন-জুলাইয়ে আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চার ম্যাচে মাত্র ৫, ০, ১ ও ২৭ রান করতে পেরেছিলেন। ফলে সদ্য সমাপ্ত জিম্বাবুয়ে সফরের দল থেকে বাদ পড়েন তিনি।
ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব বেশি ভাবতে রাজি নন স্যামসন। তার ভাষ্য, ২০২৪ বিশ্বকাপের পর ২০২৬ বিশ্বকাপ খেলবেন, এমন প্রত্যাশাও করেননি। এক সময় ১৪ বা ১৫ জনের দলেও ছিলেন না। তাহলে ২০২৮ নিয়ে এখনই পরিকল্পনা করা সম্ভব নয়। যদি দলে থাকেন, দল তাকে চায় এবং তিনি ভালো খেলেন, তাহলে সব ঠিকঠাক হবে। না হলেও তার কোনো আক্ষেপ নেই। যা অর্জন করেছেন, তা কেউ কেড়ে নিতে পারবে না বলে জানান তিনি।
এদিকে জিম্বাবুয়ে সফর থেকে স্যামসনকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন ভারতের সাবেক প্রধান নির্বাচক কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্ত। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে তিনি বলেন, টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় হওয়া সত্ত্বেও স্যামসনকে সুযোগ না দেওয়া এবং অভিষেক শর্মাকে টানা সুযোগ দেওয়া একই মানদণ্ডের পরিচয় দেয় না। তার প্রশ্ন, অভিষেক দীর্ঘ সময় সুযোগ পেতে পারে, তাহলে স্যামসন কেন নয়?




