মাত্র দুই বছর আগেও ইয়ান দিওমান্দের ক্যারিয়ার ছিল অনিশ্চয়তার মুখে। দ্বিতীয় বিভাগের একাধিক ক্লাব থেকে ট্রায়ালে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসছিলেন তিনি। একের পর এক প্রত্যাখ্যানে ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন প্রায় ভেঙে পড়েছিল। সেই দিওমান্দেই এখন রিয়াল মাদ্রিদের জার্সি গায়ে তুলেছেন, যেখানে তাঁর নামের পাশে বসানো হয়েছে ১৩০ মিলিয়ন ইউরোর মূল্য ট্যাগ। স্প্যানিশ জায়ান্টদের ইতিহাসে এত দামি খেলোয়াড় আর কেউ নেই।
শৈশবে আইভরি কোস্ট থেকে ফুটবলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান দিওমান্দে। সেখানে বিভিন্ন ক্লাব তাঁকে সুযোগ দেয়নি। শেষ পর্যন্ত কলেজের একটি ফুটবল দলে জায়গা হয় তাঁর। যখন লামিন ইয়ামালের মতো তরুণরা লা লিগায় ঝড় তুলছিলেন, তখন দিওমান্দে নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের চেষ্টায় আমেরিকার দ্বিতীয় বিভাগের লিগে খেলছিলেন। চেলসি, বোর্নমাউথ, রেঞ্জার্স, ক্রিস্টাল প্যালেস এমনকি অলিম্পিয়াকোসের মতো ক্লাবগুলো ট্রায়ালে দেখেই তাঁকে ফিরিয়ে দিয়েছিল। কারও পক্ষ থেকে যোগাযোগের আগ্রহও দেখা যায়নি।
২০২৪ সালে স্পেনের ক্লাব লেগানেস তাঁকে পরীক্ষার সুযোগ দেয়। মজার ব্যাপার হলো, সেই লেগানেসের হয়েই রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে অভিষেক হয় তাঁর। লেগানেসে মাত্র অর্ধেক মৌসুম খেলেই ভাগ্যের চাকা ঘুরে যায়। যদিও দলটি প্রথম বিভাগ থেকে অবনমিত হয়েছিল, কিন্তু দিওমান্দের প্রতিভা নজর কাড়ে জার্মান ক্লাব আরবি লাইপজিগের। ২০ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে স্পেন থেকে জার্মানিতে চলে যান তিনি।
লাইপজিগের আস্থার প্রতিদান দিতেও ভুল করেননি দিওমান্দে। প্রথম মৌসুমেই ১২ গোল ও ৮ অ্যাসিস্ট করেন। বুন্দেসলিগার সেরা নবীন তারকার খেতাবও জেতেন। এরপর বিশ্বকাপে নিজের সেরাটা দেখান। গোল না পেলেও একটি অ্যাসিস্ট করেছেন; তবে তাঁর গতি ও ড্রিবলিং সবার নজর কেড়েছে। সেই পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হন রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হোসে মরিনহো।
রিয়াল মাদ্রিদের ঐতিহ্য বলছে, বিশ্বকাপে আলো ছড়ানো তরুণ তারকাদের দলে টানা তাদের চিরাচরিত রীতি। ১৯৯৮ সাল থেকে এই ধারা চলছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো দিওমান্দের নাম। মাত্র ১৯ বছর বয়সী এই খেলোয়াড়ের জন্য ১৩০ মিলিয়ন ইউরো খরচ করতে রাজি হয়েছে রিয়াল। তাঁর ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত ৬৩ ম্যাচে ১৮ গোল। এই পরিসংখ্যান তরুণ খেলোয়াড়ের জন্য মন্দ নয়, তবে রেকর্ড দামে কেনার পেছনে অবশ্যই নতুন কিছু দেখেছেন মরিনহো।
বিশ্বকাপে এক ম্যাচে ম্যাচসেরার পুরস্কারও জিতেছেন দিওমান্দে। রিয়াল মাদ্রিদের ডান পাশের সমস্যা দীর্ঘদিনের। গ্যারেথ বেলের পর সেখানে তেমন কেউ জায়গা করে নিতে পারেননি। রদ্রিগো মূলত বাঁ পাশের খেলোয়াড় হয়েও ভিনিসিয়ুসের কারণে ডানে খেলতে হয়েছে, আবার তিনি চোটের কারণে ২০২৭ সাল পর্যন্ত মাঠের বাইরে। নতুন যাঁরা এসেছেন বা যুব দল থেকে উঠে এসেছেন, তাঁদের কেউই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। তাই ডান পাশের সংকট মেটাতে দিওমান্দেকে আনা যৌক্তিক সিদ্ধান্ত বলেই মনে করছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ।
দিওমান্দেকে রিয়ালের প্রয়োজন বুঝতে পেরে লাইপজিগ দাম বাড়িয়ে দেয়। বিশ্বকাপের আগে লিভারপুল ৭০ মিলিয়ন ইউরোর প্রস্তাব দিলেও তা ফিরিয়ে দেওয়া হয়। পিএসজি ১০৫ মিলিয়ন ইউরো অফার করলেও তাও নাকচ করে দেয় তারা। শেষ পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদই একমাত্র ক্লাব হিসেবে টিকে ছিল দৌড়ে। লাইপজিগের শর্ত অনুযায়ী ১৪০ মিলিয়ন ইউরোতে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে, যার ১২৫ মিলিয়ন ধাপে ধাপে পরিশোধ করা হবে এবং বাকি ১৫ মিলিয়ন নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে দিতে হবে।




