প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৬-এর বিজ্ঞান বিষয়ের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন প্রকাশ করা হয়েছে। এবারের পরীক্ষায় খাদ্যশৃঙ্খল ও খাদ্যস্তর সম্পর্কিত ধারণাগুলোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। ধানমন্ডি সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক মিজানুর রহমান ৩০টি শূন্যস্থান পূরণ প্রশ্ন তৈরি করেছেন, যার মধ্যে খাদ্যশৃঙ্খলের প্রতিটি স্তরকে ‘খাদ্যস্তর’ বলা হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রশ্নগুলোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বাস্তুসংস্থান, উদ্ভিদ ও প্রাণীর পারস্পরিক নির্ভরতা, সালোকসংশ্লেষণ, খাদ্যশৃঙ্খল ও খাদ্যজাল সম্পর্কে ধারণা যাচাই করা হবে। যেমন—বেঁচে থাকার জন্য প্রতিটি জীব কোনো না কোনোভাবে জড়বস্তুর ওপর নির্ভরশীল, উদ্ভিদ সূর্যালোকে কার্বন ডাই–অক্সাইড ও পানি ব্যবহার করে খাদ্য তৈরি করে। এছাড়াও প্রাণীর শ্বাসক্রিয়ায় ত্যাগ করা কার্বন ডাই–অক্সাইড উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণে ব্যবহার করে, এবং উদ্ভিদের উৎপাদিত অক্সিজেন প্রাণী শ্বাসগ্রহণে ব্যবহার করে। প্রশ্নে উল্লেখ করা হয়েছে, গাছের ডালে পাখি, বানর ও মৌমাছির বসবাস প্রমাণ করে উদ্ভিদ অনেক প্রাণীর আবাসস্থল। মৌমাছি ও প্রজাপতি ফুলে ফুলে ঘুরে পরাগায়ন ঘটায়, যা না হলে অধিকাংশ উদ্ভিদের বংশবৃদ্ধি সম্ভব হতো না। বিভিন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণীর মৃতদেহ পচে জড় উপাদানে পরিণত হয়, যা পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখে। খাদ্যশৃঙ্খল নিয়ে প্রশ্নে বলা হয়েছে, সবুজ উদ্ভিদকে উৎপাদক বলা হয় কারণ তারা নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে প্রাণীরা খাদক, কারণ তারা নিজের খাদ্য তৈরি করতে পারে না। তৃণভোজী প্রাণী প্রথম স্তরের খাদক, মাংসভোজী দ্বিতীয় বা তৃতীয় স্তরের খাদক। যেমন—ঘাসফড়িংকে ব্যাঙ খেলে ব্যাঙ দ্বিতীয় স্তরের খাদক, সাপ ব্যাঙ খেলে সাপ তৃতীয় স্তরের খাদক। অধিকাংশ তৃতীয় স্তরের খাদক মাংসভোজী। খাদ্যশৃঙ্খলের প্রতিটি স্তরকে খাদ্যস্তর বলা হয় এবং কোনো বাস্তুসংস্থানে একাধিক খাদ্যশৃঙ্খল মিলে খাদ্যজাল তৈরি করে। শিক্ষক মিজানুর রহমান আশা প্রকাশ করেছেন, এসব প্রশ্ন শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান বিষয়ে গভীরভাবে বুঝতে সাহায্য করবে।