মিউজিক ভিডিও ‘শিকারি’ আজ ইউটিউবে অবমুক্ত হতে চলেছে। এই গানের মাধ্যমে মডেল হিসেবে প্রথমবারের মতো বড় পরিসরের কোনো ভিডিও প্রকল্পে অংশগ্রহণ করেছেন ঢালিউডের পরিচিত মুখ জায়েদ খান। দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন এই অভিনেতা। সেখানে মঞ্চে অভিনয়, কখনো ডিগবাজি, আবার কখনো সহশিল্পীদের সঙ্গে নেচে তিনি দর্শকদের মাঝে আলোচনায় এসেছেন। এবার নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে এলেন মিউজিক ভিডিও নিয়ে। চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির একসময়ের আলোচিত-সমালোচিত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচিত এই শিল্পী সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গানটির প্রচারণায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।

গানটি গেয়েছেন সজীব দাস ও সানজিদা রিমি। ভিডিওটি পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন বদরুদ্দোজা সাগর, আর নৃত্যপরিচালনায় ছিলেন রোহান বিল্লাল। লুডু মিউজিকের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত হতে যাওয়া এই ভিডিওতে জায়েদ খানের সঙ্গে মডেল হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশের ইয়াসমিন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের নিনা ও মারিয়ানা এবং রাশিয়ার জুলিয়া, কারলা, কামিলা ও মিলানা—মোট সাতজন মডেল ভিডিওটিতে অংশ নিয়েছেন। গত মাসে এর দৃশ্যধারণ সম্পন্ন হয়।

জায়েদ খান জানিয়েছেন, স্পোর্টসকার, মোটরসাইকেল, রুশ মডেল এবং হলিউড সিনেমার মতো লোকেশনে এই ভিডিওর শুটিং করা হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘এই গান দেখে মানুষ হাসাহাসি করবে না, এটা নিশ্চিত। এত বড় আয়োজনে দেশের তেমন কেউ কাজ করেনি। যে কারণে আয়োজনের কথা শুনেই মিউজিক ভিডিও করতে রাজি হয়ে যাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘একদম হলিউড স্টাইলে শুটিং করা। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে আছি, হলিউড স্টাইলে কাজ না করাটা একটা অপ্রাপ্তি ছিল। এখন আমি বলতে পারব, হলিউড স্টাইলে কাজ করেছি। সেটা গান দেখলেই দর্শকেরা বুঝবেন।’ ভিডিওতে তাঁর একটি বিশেষ লুকও দর্শকদের সামনে আসবে।

শুটিং সম্পন্ন হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক, ফিলাডেলফিয়াসহ আরও কয়েকটি লোকেশনে। জায়েদের ভাষ্যমতে, গানটি তাঁর জন্য সম্পূর্ণ নতুন অভিজ্ঞতা। তিনি বলেন, ‘আমরা একটা সিনেমার গানেও এত সময় দিই না। এমনকি এত সুন্দর লোকেশনে আমাদের সিনেমার শুটিংও হয় না। আমি চেয়েছি গানটি আমরা প্রবাসী দর্শকসহ দেশের দর্শকেরা দেখুক। তাদের ভালো লাগবে।’ এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট, প্রযোজনা ও লোকেশন নির্বাচনে তিনি আন্তর্জাতিক মানের উপর বিশেষ জোর দিয়েছেন এবং দর্শকদের জন্য একটি ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা তৈরি করতে চেয়েছেন। এই প্রকল্পে দেশি-বিদেশি মডেলদের অংশগ্রহণ, উন্নত যানবাহনের ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক মানের লোকেশন নির্বাচন—সবকিছু মিলিয়ে ‘শিকারি’ একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হিসেবে উপস্থাপিত হচ্ছে। জায়েদ খানের মতে, এই আয়োজনের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশি ও স্থানীয় দর্শক উভয়েই একটি নতুন ধরনের বিনোদনের স্বাদ পাবেন।