ভারতীয় বিনোদন জগতে তারকাদের মধ্যে রেস্তোরাঁ ব্যবসায় প্রবেশের প্রবণতা দীর্ঘদিনের। অভিনয়ের পাশাপাশি অনেকেই এই খাতে নিজেদের নাম লিখিয়েছেন এবং তাদের প্রতিষ্ঠিত দোকানগুলো দর্শক ও ভোজনরসিকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। তবে বলিউড তারকা সালমান খানের বোন অর্পিতা খান এই ধারায় সম্পূর্ণ ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছেন। তিনি কখনো অভিনয়ের জগতে পা রাখেননি; সালমানের বোন হিসেবেই তাঁর পরিচিতি বেশি। তবু জনপ্রিয়তার দিক থেকে অর্পিতা কোনো বলিউড তারকার তুলনায় কম কিছু নন।
সম্প্রতি মুম্বাইয়ের পশ্চিম খারে ‘মার্সি’ নামে একটি অভিজাত রেস্তোরাঁ চালু করেছেন তিনি। ২০২৫ সালের গোড়ার দিকে এর যাত্রা শুরু হয়। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এটি ভোজনবিলাসীদের অন্যতম প্রিয় ঠিকানায় পরিণত হয়েছে। কিন্তু এই রেস্তোরাঁয় কোনো পদ উপভোগ করতে চাইলে গ্রাহককে অবশ্যই মোটা অঙ্কের টাকা সঙ্গে রাখতে হবে। কারণ এখানে একটি আইটেমের দাম হাজার টাকা থেকে শুরু করে লাখ টাকা পর্যন্ত বিস্তৃত। এমনকি গলা ভেজানোর জন্যও পকেট থেকে খসতে পারে বিপুল পরিমাণ টাকা।
‘মার্সি’র মেনু কার্ডে চোখ রাখলে যে কারও চোখ কপালে উঠতে বাধ্য। মাছ ও সামুদ্রিক খাবারের মধ্যে ‘সল্ট ক্রাস্টেড রেড স্ন্যাপার’ নামে একটি বিশেষ পদ রয়েছে, যা তৈরি হয় মাছ দিয়ে। এই খাবারের দাম বাংলাদেশি মুদ্রায় দশ হাজার টাকা। অন্যদিকে ‘ট্রাফল পাস্তা ফ্রম হুইল’ নামের একটি পদও একই মূল্যে—দশ হাজার টাকায়—বিক্রি হয়। সামুদ্রিক খাবারের তালিকায় থাকা ‘তেরিয়াকি স্যামন’ পদের দাম চার হাজার টাকা। এই দামগুলো স্পষ্ট করে যে, এটি সাধারণ মানুষের জন্য নয়, বরং বিলাসবহুল অভিজ্ঞতা খুঁজে বের করা ভোজনরসিকদের জন্য।
খাবারের পাশাপাশি পানীয়ের মূল্যও অত্যন্ত চড়া। রেস্তোরাঁটিতে পরিবেশিত সবচেয়ে দামি শ্যাম্পেনের মূল্য দুই লাখ টাকা। একইভাবে এক বোতল রেড ওয়াইনের দাম প্রায় এক লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা। এশীয়, ভারতীয় এবং ইউরোপীয়—এই তিন ধারার খাবারই এখানে পাওয়া যায়, যা গ্রাহকদের বৈচিত্র্যময় স্বাদের সুযোগ করে দেয়।
ব্যক্তিগত জীবনে অর্পিতা অভিনয়জগতের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। তবে তাঁর স্বামী আয়ুষ শর্মাকে বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে নায়কের ভূমিকায় দেখা গেছে। সালমান খানের ‘অন্তিম: দ্য ফাইনাল ট্রুথ’ ছবিতেও আয়ুষের উপস্থিতি ছিল। ২০১৪ সালে অর্পিতা ও আয়ুষের বিয়ে সম্পন্ন হয়। তাদের সংসারে দুটি সন্তান রয়েছে—আহিল ও আয়াত শর্মা। ব্যবসায়িক সফলতার পাশাপাশি পারিবারিক জীবনেও তিনি স্থিতিশীল একটি পরিচয় গড়ে তুলেছেন।




