যুক্তরাষ্ট্রের আকস্মিক হামলার প্রতিক্রিয়ায় বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত ৮৫টি মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। তাসনিম নিউজের বরাতে এই তথ্য জানা গেছে, যদিও সংবাদ সংস্থাটি স্বাধীনভাবে এ দাবি যাচাই করতে পারেনি। আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহবি জানান, বুশেহর প্রদেশের খোরমুজ এলাকার আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। মার্কিন বাহিনীর 'আকাশপথে আগ্রাসনের' জবাবে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এর আগে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছিল, তারা ইরানের ৮০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুল হামলা চালিয়েছে। সেন্টকমের বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ নেটওয়ার্ক, উপকূলীয় রাডার স্থাপনা এবং জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার ওপর এই হামলা পরিচালিত হয়। এই হামলার সময় ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষবিদায় উপলক্ষে সাত দিনের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি চলছিল, যেখানে লাখ লাখ ইরানি কোম শহরে জড়ো হয়েছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে যুদ্ধবিরতির 'গুরুতর লঙ্ঘন' বলে আখ্যা দিয়েছে আইআরজিসি। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর যৌথ কমান্ডের সদর দপ্তর খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স থেকে এক বিবৃতিতে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয় এবং একে 'স্পষ্ট আগ্রাসন' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। হামলার পরপরই ইরানের সামরিক বাহিনী সতর্ক করে বলেছিল, এই পদক্ষেপের জবাবে তারা 'বিধ্বংসী প্রতিক্রিয়া' দেখাবে। বিবৃতিতে হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনায় কোনো বহিরাগত হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়। ইরানের সামরিক বাহিনীর দাবি, 'হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকারের নিরাপদ চলাচলের একমাত্র পথ হলো ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের নির্ধারিত রুট।'
এদিকে ইরানের শীর্ষ আলোচক ও পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডকে দুই দেশের মধ্যে সই হওয়া সমঝোতা স্মারকের 'গুরুতর লঙ্ঘন' বলে অভিহিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, 'হরমুজ প্রণালিতে ইরানের গৃহীত ব্যবস্থার লঙ্ঘন, বারবার হামলার হুমকি, ইরানের তেল খাতে আবারও নিষেধাজ্ঞা আরোপ, দক্ষিণ ইরানে হামলা এবং লেবাননে জায়নবাদী (ইসরায়েলি) আগ্রাসন অব্যাহত রাখা—এ সবই সমঝোতা স্মারকের লঙ্ঘন।' এই ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে।




