পাকিস্তানের একটি বেসরকারি কার্গো বিমান আরব সাগরের ওপর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় ব্যাপক উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ থেকে করাচির উদ্দেশ্যে যাত্রা করা কে২ এয়ারওয়েজের বোয়িং ৭৩৭-৪০০ মডেলের উড়োজাহাজটি করাচি থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার পশ্চিমে আরব সাগরের আকাশে রাডারের পর্দা থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়। পাকিস্তান বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের (পিএএ) বরাতে জানা গেছে, উড়োজাহাজটিতে মোট পাঁচজন ক্রু সদস্য ছিলেন।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, রাত ৯টা ১৮ মিনিটে পাইলট করাচি এরিয়া কন্ট্রোল সেন্টারের (এসিসি) কাছে নেভিগেশনাল সিস্টেমে একটি ত্রুটির কথা জানিয়ে সহায়তা চান। এর মাত্র তিন মিনিট পর রাত ৯টা ২১ মিনিটে রাডার পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, বিমানটি ‘খুব দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে’ এবং হঠাৎ করেই নিজের গতিপথ পরিবর্তন করছে। ঠিক এর পরপরই করাচি থেকে প্রায় ২৮৭ কিলোমিটার পশ্চিমে ‘রাডার যোগাযোগ ও সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়’ বলে জানিয়েছে পিএএ।
ফ্লাইট-ট্র্যাকিং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, উড়োজাহাজটি প্রথমে উচ্চতা হারায়, এরপর কিছুটা ওপরে ওঠে এবং তারপর আবার নাটকীয়ভাবে নিচে নেমে যায়। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুসারে, বিমানটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১ হাজার ১০০ ফুট উচ্চতায় ছিল এবং প্রতি মিনিটে মাইনাস ২২ হাজার ৪০০ ফুট হারে নিচে নামছিল। ফ্লাইট ট্র্যাকিং সংস্থাগুলোর মতে, উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরেই ওই অঞ্চলের অন্যান্য উড়োজাহাজের মতোই এটি জিএনএসএস ইন্টারফারেন্স বা সিগন্যাল বিভ্রাটের মুখে পড়ে, যার ফলে শারজাহর কাছাকাছি এলাকায় এর নেভিগেশন ডেটা দুর্বল হয়ে পড়েছিল। উড়োজাহাজটি যখন এই সিগন্যাল বিভ্রাট কাটিয়ে ওঠে, তখন ফ্লাইটরাডার২৪ আবার তার এডিএস-বি তথ্য পেতে শুরু করে।
ঘটনার পরপরই উদ্ধার সমন্বয় কেন্দ্রকে সক্রিয় করা হয়েছে এবং নিখোঁজ বিমানটির সন্ধানে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে সমুদ্রে একটি ব্যাপক অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। ব্যুরো অব এয়ার সেফটি ইনভেস্টিগেশন এই দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করবে বলে জানা গেছে। এপি-বিওআই নিবন্ধিত উড়োজাহাজটি হলো বোয়িং ৭৩৭-৪এম০ (বিডিএসএফ), যা ২০২৪ সালে কে২ এয়ারওয়েজের বহরে যুক্ত হয়েছিল। এর আগে এটি ১৯৯৯ সালে অ্যারোফ্লটের যাত্রীবাহী বিমান হিসেবে যাত্রা শুরু করে। পরে ২০০৪ সালে এটি গারুডা ইন্দোনেশিয়ার বহরে যুক্ত হয় এবং ২০১২ সালে এটিকে মালবাহী উড়োজাহাজে রূপান্তর করা হয়। পরবর্তী সময়ে টিএনটি এয়ারওয়েজ ও এএসএল এয়ারলাইসের মাধ্যমেও এটি পরিচালিত হয়েছে।
কে২ এয়ারওয়েজ করাচিভিত্তিক একটি বেসরকারি বিমান সংস্থা, যা সরকারের কাছ থেকে এয়ারলাইন চার্টার লাইসেন্স পাওয়ার পর ২০১৮ সালের মে মাসে প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে নিখোঁজ বিমান ও তার ক্রুদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।




