বিশ্বকাপ ফুটবলের শেষ ষোলোর পর্বে আর্জেন্টিনা ও মিসরের মধ্যকার ম্যাচটি রেফারিং নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে মিসরের একটি গোল বাতিলের ঘটনা ঘিরে তৈরি হয় বিতর্ক। ফিফার পক্ষ থেকে এখন এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটির প্রধান রেফারিং কর্মকর্তা পিয়েরলুইজি কোলিনা এক সাক্ষাৎকারে এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
সাবেক এই ইতালিয়ান রেফারি বর্তমানে ফিফার রেফারিং বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন। কাতারে অনুষ্ঠিত ২০২২ বিশ্বকাপের তুলনায় এবারের আসরে এখন পর্যন্ত ৫০ শতাংশ বেশি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানান তিনি। সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করলেও স্বল্প সময়ে এত বেশি ম্যাচ আয়োজনের চ্যালেঞ্জের কথাও স্বীকার করেন কোলিনা। তবে প্রতিটি ম্যাচের পর রেফারিরা নিজেদের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে পরবর্তী ম্যাচে শতভাগ প্রস্তুতি নিয়ে নামেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে কোলিনা স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা দেন। তার মতে, মিসরের মারওয়ান আত্তিয়া আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্তিনেজের পায়ে পাড়া দিয়েছিলেন, যা স্পষ্ট ফাউল। মাঠের রেফারি ঘটনাটি দেখতে না পেলেও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) এটি শনাক্ত করতে সক্ষম হন। গোল বাতিলের পেছনে এই ফাউলকেই কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন কোলিনা। তিনি বলেন, ফুটবলের ভাষায় ফাউল মানেই ফাউল, তা যেখানেই ঘটুক না কেন।
একই ম্যাচের আরেকটি ঘটনায় মিসরের মোহাম্মদ সালাহ ও আর্জেন্টিনার হুলিয়ান আলভারেজের মধ্যকার সংঘর্ষকে স্বাভাবিক শারীরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা হিসেবে চিহ্নিত করেন কোলিনা। রেফারি ও ভিএআর উভয়েই সেটিকে ফাউল না ধরা সঠিক সিদ্ধান্ত বলে মনে করেন তিনি।
কোলিনা আরও বলেন যে, ফুটবলে সিদ্ধান্ত নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা সবসময়ই স্বাগত, কিন্তু ভিত্তিহীন অভিযোগের কোনো সুযোগ নেই। ম্যাচ অফিশিয়ালদের সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলা তাদের ও তাদের পরিবারের জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে। ফিফা সভাপতি কখনো রেফারিংয়ে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন না বরং পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়ে রেফারি টিমকে সমর্থন করেন বলে জানান কোলিনা।
ভিএআর প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে কোলিনা বলেন, প্রতিটি গোলের পর 'অ্যাটাকিং পজিশন ফেজ' বা আক্রমণের শুরুর দিকটি পরীক্ষা করা হয়। বিল্ডআপে ফাউল থাকলে সেটি গোলের ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে কিনা তা বিচার করে ভিএআর মাঠের রেফারিকে অন-ফিল্ড রিভিউর পরামর্শ দেয়। এ ক্ষেত্রে গোলপোস্ট থেকে ফাউলের দূরত্ব বা সময়ের কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই। আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচে আত্তিয়ার ফাউলটি গোলের বিল্ডআপে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল বলেই গোল বাতিল করা হয়।
সামগ্রিকভাবে ফিফা টুর্নামেন্টজুড়ে ভিএআর-এর প্রয়োগ নিয়ে সন্তুষ্ট বলে জানান কোলিনা। যদিও কিছু সিদ্ধান্তে ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গির কারণে মতপার্থক্য থাকতে পারে, তবে নিয়মের ধারাবাহিক প্রয়োগ নিয়ে তারা আশ্বস্ত।




