কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার শুধু কাজ স্বয়ংক্রিয় করছে না, বরং কর্মীদের নিজ পেশার বাইরের কাজ করতেও সহায়তা করছে। ওপেনএআইয়ের নতুন গবেষণায় এমনই চিত্র উঠে এসেছে, যা প্রচলিত চাকরির সীমানাকে ধীরে ধীরে বদলে দিচ্ছে। ওপেনএআই প্রকাশিত ‘Work at the Frontier: How AI is Expanding What People Do at Work’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি যুক্তরাষ্ট্রের ৮ লাখের বেশি নাম-পরিচয়হীন ব্যবহারকারীর চ্যাটজিপিটি কথোপকথনের বিশ্লেষণের ভিত্তিতে তৈরি।
গবেষণায় ‘টাস্ক ক্রসওভার’ নামে একটি ধারণা ব্যবহার করা হয়েছে। এর অর্থ, কোনো নির্দিষ্ট পেশার জন্য নির্ধারিত কাজ অন্য পেশার কর্মীরাও এআইয়ের সহায়তায় সম্পন্ন করতে পারছেন। উদাহরণস্বরূপ, একজন মানবসম্পদ কর্মকর্তা এখন তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত সমস্যা সমাধান করছেন, একজন গ্রাহকসেবা কর্মকর্তা আর্থিক হিসাব করছেন, অথবা একজন বিপণনকর্মী সফটওয়্যার কোড নিয়ে কাজ করছেন। আগে এসব কাজের জন্য আলাদা বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন হতো, কিন্তু এআই সেই ব্যবধান কমিয়ে দিচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেশাভিত্তিক এআই ব্যবহারের ৪৩.৫ শতাংশই নিজ পেশার সীমানা ছাড়িয়ে অন্য ধরনের কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত। গ্রাহকসেবা, নকশা, মানবসম্পদ, আইন ও বিপণন—এই পাঁচ খাতে পেশাগত সীমানা অতিক্রম করে এআই ব্যবহারের হার সবচেয়ে বেশি। গ্রাহকসেবা খাতে এই হার ৭৭ শতাংশ, নকশায় ৭০ শতাংশ, মানবসম্পদে ৬৯ শতাংশ, আইনে ৫৬ শতাংশ এবং বিপণনে ৫৩ শতাংশ। বিপণন ও সফটওয়্যার প্রকৌশল সংক্রান্ত কাজ সবচেয়ে বেশি অন্যান্য পেশায় ছড়িয়ে পড়ছে, আর আর্থিক হিসাব-নিকাশ ও প্রযুক্তিগত সমস্যা সমাধানের মতো কাজও বিভিন্ন পেশার কর্মীরা এআইয়ের মাধ্যমে করছেন।
ছোট প্রতিষ্ঠানে এই প্রবণতা বড় প্রতিষ্ঠানের তুলনায় বেশি দেখা যাচ্ছে। কারণ ছোট প্রতিষ্ঠানে বিশেষজ্ঞ কর্মীর সংখ্যা কম থাকায় একজন কর্মীকেই একাধিক ধরনের কাজ করতে হয় এবং এআই সেই ঘাটতি পূরণে ভূমিকা রাখছে। ওপেনএআইয়ের মতে, এআইকে কেবল চাকরি প্রতিস্থাপনের প্রযুক্তি হিসেবে দেখলে পুরো চিত্র বোঝা যাবে না। বরং প্রযুক্তিটি কর্মীদের নতুন ধরনের কাজ করার সক্ষমতা বাড়াচ্ছে এবং দীর্ঘমেয়াদে বিভিন্ন পেশার কাজের ধরন ও দায়িত্ব পুনর্নির্ধারণ করতে পারে। ভবিষ্যতে অনেক পেশার মূল দায়িত্ব পুনর্গঠিত হতে পারে, যেখানে একই চাকরিতে কাজের পরিধি বাড়বে এবং বিভিন্ন বিভাগের কাজের মধ্যে প্রচলিত সীমারেখা আরও অস্পষ্ট হয়ে যাবে।




