গত মঙ্গলবার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় নির্মাতা মোহাম্মদ তাওকীর ইসলামের ‘দেলুপি’ চলচ্চিত্রের উন্মুক্ত প্রদর্শনী। প্রদর্শনী শেষে আয়োজিত ‘জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান ও চলচ্চিত্রের রাজনৈতিক ভূমিকা’ শীর্ষক সংলাপে অংশ নেন কবি ও প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ, লেখক ও নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবির, ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের অধ্যাপক বখতিয়ার আহমেদ এবং প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) সহযোগী অধ্যাপক মনিরা শরমিন।
আলোচনায় সাজ্জাদ শরিফ বলেন, চলচ্চিত্রটিতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ের চিহ্ন স্পষ্টভাবে বিদ্যমান। তার ভাষ্যে উঠে আসে, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনার প্রতিফলন এখানে দেখা যাবে। ‘দেলুপি’কে যেমন একটি গ্রাম হিসেবে দেখা যায়, তেমনি সমগ্র বাংলাদেশ হিসেবেও বিবেচনা করা সম্ভব। যেখানে শাসক বদলালেও শেষ পর্যন্ত কোনো আমূল পরিবর্তন ঘটেনি। সংখ্যালঘুদের অবস্থা ও সংস্কৃতিচর্চার চিত্রও ছবিতে ফুটে উঠেছে। ফলে এটি ওই সময়ের দলিল হিসেবে কাজ করবে। ভবিষ্যতে যখন আমরা আন্দোলনটিকে বিশ্লেষণ করতে চাইব, তখন এই ছবি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।’
নূরুল কবির বলেন, ‘যে অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ অতিক্রম করেছে, তার গতি ও অর্থ ধারণের চেষ্টা করেছে ছবিটি।’ বখতিয়ার আহমেদের মতে, ‘দেলুপি’ অত্যন্ত সহজ, সরল ও অকপট। এটি কেন্দ্রীভূত বয়ানের বাইরে গিয়ে মাইক্রোসোশ্যাল পরিস্থিতি তুলে ধরেছে। প্রান্তিক পর্যায় থেকে সত্যের আরেক রূপ দেখা যায়। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে মাইক্রোস্কোপিক সূত্রের সন্ধান দিচ্ছে এই চলচ্চিত্র। এটি বিপ্লব-কেন্দ্রিক অন্যান্য সিনেমা থেকে ভিন্ন; কোনো গ্র্যান্ড ন্যারেটিভ নয়, বরং কাদাজলে ভেজা ও রোদে পোড়া মানুষের জীবনের সরল সত্য উপস্থাপন করে।
মনিরা শরমিন উল্লেখ করেন, ‘যেখানে জুলাই অভ্যুত্থান শেষ, ঠিক সেই বিন্দু থেকেই সিনেমাটির সূচনা। জুলাইয়ের ইতিহাস রচনায় ‘দেলুপি’কে বাদ দেওয়া যাবে না। জুলাই নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে, কিন্তু সিনেমা হয়নি। চলচ্চিত্রের মূল সুর জুলাইকে কেন্দ্র করে। রাষ্ট্র পুনর্গঠনে পুরোনোকে ফেলে দেওয়া সম্ভব নয়। যে স্বপ্ন জেন-জিদের মধ্যে ছিল, তা বাস্তবে দেখতে পেয়েছি এ সিনেমায়।’
প্রদর্শনীতে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি। মঞ্চে ডেকে তিনি বলেন, ‘আন্দোলন মানুষকে নতুন করে গড়ে তোলে। জাকির চেয়ারম্যানদের (দেলুপির চরিত্র) হয়তো বদলে দিয়েছে। সিনেমায় সেই ইঙ্গিত থাকতে পারে।’ সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদসহ অন্যান্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
প্রদর্শনী শেষে শিল্পীদের নিয়ে মঞ্চে আসেন নির্মাতা মোহাম্মদ তাওকীর ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমাদের একটাই চাওয়া, আরও দর্শকের কাছে ছবিটি পৌঁছাক।’ আয়োজনে সহযোগিতা করে ওয়ার্ল্ড সিনে সার্কেল, সিনেফিল সোসাইটি বাংলাদেশ এবং সুন্দরবন ফিল্ম সোসাইটি। সঞ্চালনায় ছিলেন বাংলাদেশ ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুর উল্লাহ।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ের গল্পে নির্মিত ‘দেলুপি’ গত ৭ নভেম্বর মুক্তি পায়। দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে সিনেমাটি।




