মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও কট্টর ষড়যন্ত্র তাত্ত্বিক লরা লুমার সম্প্রতি ইউক্রেন সফর শেষে ফিরে এসেছেন। সফরকালে তিনি স্বীকার করেছেন যে, দীর্ঘদিন ধরে তিনি রুশ প্রচারণার শিকার হয়েছিলেন এবং ইউক্রেন সম্পর্কে তার ধারণা ভুল ছিল। কিয়েভে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ইউক্রেন নিয়ে ভুল তথ্যে বিশ্বাস করে তিনি ‘বোকা বনে গিয়েছিলেন’।

লুমার জানান, তার এই উপলব্ধি ধীরে ধীরে এসেছে। তিনি লক্ষ্য করেছেন, কিছু পডকাস্টার যেমন টাকার কার্লসন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন এবং তাদের বক্তব্য রুশ সূত্রে প্রশস্ত হচ্ছে। তিনি মনে করেন, এই পডকাস্টাররা ভুল তথ্য ছড়িয়ে মানুষের মনকে এমনভাবে বিকৃত করছে যে তারা সাধারণ জ্ঞান দিয়েও কোনো বিষয় বিশ্লেষণ করতে পারছে না। এই পরিস্থিতিকে তিনি ‘একটি বড় জাতীয় নিরাপত্তা হুমকি’ বলে অভিহিত করেছেন।

লুমার দীর্ঘদিন ধরে ইউক্রেন যুদ্ধকে খাটো করে দেখেছেন এবং রুশ প্রচারণাকে জোরদার করেছেন। তবে এই সফরে তিনি সম্পূর্ণ উল্টো অবস্থান নিয়েছেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সাক্ষাৎকার নেওয়ার সময় তিনি বলেছেন, ‘আমি বুঝতে পেরেছি, আমি রুশ প্রচারণায় প্রতারিত হয়েছিলাম এবং ইউক্রেন সম্পর্কে অনেক মিথ্যা কথা বিশ্বাস করেছিলাম। আমি ভাবতাম এই দেশ নাৎসিতে ভরা।’ নিজের এই ভ্রান্ত ধারণার জন্য তিনি আমেরিকার সামাজিক মাধ্যমে নিষিদ্ধ হওয়ার পর টেলিগ্রাম ব্যবহার করাকে দায়ী করেছেন, যেখানে রুশ মিডিয়ার তথ্য ব্যাপকভাবে ছড়ানো হয়।

ইউক্রেনের শীর্ষ কর্মকর্তারা লুমারকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন। জেলেনস্কির কার্যালয় সামাজিক মাধ্যমে লিখেছে, ‘রুশ প্রচারণা বা বিমান হামলার সাইরেনে ভীত না হয়ে ইউক্রেনে আসার জন্য সাহসের প্রয়োজন।’ লুমার কিয়েভ-পেচেরস্ক লাভরার ডরমিশন ক্যাথেড্রাল পরিদর্শন করেছেন, যা সম্প্রতি রুশ হামলার শিকার হয়েছিল। ইউক্রেনের উপপ্রধানমন্ত্রী ও সংস্কৃতিমন্ত্রী তেতিয়ানা বেরেজনা আশা প্রকাশ করেছেন, লুমারের সফর ইউক্রেন ও মার্কিন প্রশাসনের মধ্যে সম্পর্কের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

লুমার দাবি করেছেন, তার এই সফর ইউক্রেনের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে এনেছে। কংগ্রেসে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বিতর্কের সময় এই সফর যুদ্ধের প্রতি দৃষ্টি পুনরায় কেন্দ্রীভূত করেছে। তিনি বলেন, ‘ইউক্রেনের জন্য এটি ভালো যাচ্ছে, তাই না?’ ট্রাম্পের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে এবং তিনি আশা করছেন ফিরে গিয়ে প্রেসিডেন্টের সাথে সাক্ষাৎ করবেন।

তবে সমালোচকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, লুমার নিজে অতীতে বহু ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়িয়েছেন। তিনি ৯/১১ হামলাকে ‘অভ্যন্তরীণ চক্রান্ত’ বলে অভিহিত করেছেন এবং হাইতিয়ান অভিবাসীদের সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়েছেন যা ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট বিতর্কে পুনরায় উচ্চারণ করেছিলেন। ইউক্রেন নিয়ে তার মনোভাব পরিবর্তন হলেও, তার বিদ্বেষপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি একই রয়েছে। কিয়েভে পোস্ট করা এক বার্তায় তিনি বলেছেন, ‘ইউক্রেন সম্পর্কে আমি সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি যে এখানে আমি একটি মুসলমানও দেখিনি। এটি খুবই সতেজকর।’

লুমার জোর দিয়ে বলেছেন, ইউক্রেন সরকার তার এই সফরের কোনো অর্থায়ন করেনি এবং তিনি নিজস্ব সামর্থ্যে ভ্রমণ করেছেন। ‘যদি এটি ভুয়া হতো, তাহলে আমি কেন নিজের জীবন ঝুঁকি নিয়ে বোমা শেল্টারে বসে রাত কাটাব?’—প্রশ্ন রাখেন তিনি।