মাইক্রোসফটের সাবেক প্রধান নির্বাহী (২০০০-২০১৪) স্টিভ বলমার ও তার স্ত্রী কনি বলমার তাদের দুই দশকের বেশি সময়ে ৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি দানের পর দাতব্য কাঠামোতে আমূল পরিবর্তন আনছেন। ২০১৫ সালে গঠিত বলমার গ্রুপের তিনটি আঞ্চলিক শাখা—মুভআপ সাউথইস্ট মিশিগান, মুভআপ লস অ্যাঞ্জেলেস ও মুভআপ ওয়াশিংটন—এখন সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র অলাভজনক সংস্থায় পরিণত হচ্ছে। এগুলো স্বাধীনভাবে পরিচালিত হবে, যদিও বলমার দম্পতির অর্থায়ন অব্যাহত থাকবে।
এই তিন অঞ্চলের প্রত্যেকটির সঙ্গে দম্পতির গভীর সম্পর্ক রয়েছে। স্টিভ বড় হয়েছেন সাউথইস্ট মিশিগানে, লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টিতে তারা ক্লিপার্সের মালিক, আর ওয়াশিংটন তাদের বাসস্থান। তাই সিদ্ধান্ত গ্রহণকে কাজের সবচেয়ে কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই এই বিভাজনের পরিকল্পনা। বলমার গ্রুপের প্রধান নির্বাহী টেরি লুডভিগ এই নতুন সত্তাগুলোকে স্টার্টআপ হিসেবে দেখছেন, স্পিন-অফ নয়। “কীভাবে আমরা কাজের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ থাকব এবং আমাদের নেতাদের ক্ষমতায়িত করব”—এই প্রশ্নই নতুন কৌশলের মূলে, বলে তিনি জানান।
বলমার গ্রুপের সবচেয়ে বড় অনুদানের মধ্যে রয়েছে ওরেগন বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪২.৫ কোটি ডলারে বলমার ইনস্টিটিউট ফর চিলড্রেনস বিহেভিয়োরাল হেলথ প্রতিষ্ঠা, ব্লু মেরিডিয়ান পার্টনার্সকে ২৩.৭৫ কোটি ডলার এবং কমিউনিটিজ ইন স্কুলসে ১৬.৫ কোটি ডলার পর্যন্ত অঙ্গীকার। স্টিভ বলমারের আনুমানিক সম্পদ ১৭.৭ বিলিয়ন ডলার এবং ব্লুমবার্গ বিলিয়নেয়ারস ইনডেক্স অনুযায়ী তিনি বিশ্বের নবম ধনী ব্যক্তি। নতুন সংস্থাগুলোর আর্থিক কাঠামো এখনো চূড়ান্ত হয়নি; গিকওয়্যারের প্রতিবেদন অনুসারে একটি এনডাউমেন্ট গঠনের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
প্রতিটি নতুন সংস্থা নিজস্ব পরিচালনা পর্ষদ গঠন করবে এবং বিদ্যমান আঞ্চলিক কার্যক্রম চালিয়ে যাবে, যদিও স্থানীয় চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তা সাজানো হবে। ১ জুলাই প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী এক বছরে প্রতিটি অঞ্চলের কর্মীরা নতুন সংস্থায় স্থানান্তরিত হবেন। বর্তমান অনুদানপ্রাপ্তরা কোনো বিঘ্ন ছাড়াই তাদের প্রতিশ্রুতি বজায় রাখবেন। এদিকে বলমার গ্রুপ নিজেই আরও সীমিত পরিসরে কাজ করবে, যেখানে বৃহৎ ও প্রসারণযোগ্য জাতীয় উদ্যোগে মনোযোগ কেন্দ্রীভূত হবে।
টেরি লুডভিগ তিনটি সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা বোর্ড সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন, একই সঙ্গে বলমার গ্রুপের প্রধান নির্বাহীর পদেও থাকবেন। স্টিভ ও কনি বলমার এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, “আমাদের উদ্দেশ্য হলো স্থানীয় দাতব্য সংস্থাগুলোকে প্রতিটি অঞ্চলে স্থায়ী ও চলমান সম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা, যাতে আমরা জাতীয় পর্যায়ে নতুন উপায়ে অর্থনৈতিক গতিশীলতা এগিয়ে নিতে পারি।”
কনি বলমার প্রায় ২৫ বছর আগে দাতব্য কাজ শুরু করেন, যখন স্টিভের মাইক্রোসফটের শেয়ার থেকে বিশাল সম্পদ আসেনি। ওয়াশিংটনের পালক পরিবারের যত্ন ব্যবস্থায় তার প্রথম উদ্যোগ ছিল এবং তিনি নিজের রান্নাঘরের টেবিল থেকে চেক লিখতেন। ২০১৫ সালে দম্পতি বলমার গ্রুপ গঠন করলেও, ম্যাকেঞ্জি স্কট, জেফ বেজোস ও লরেন সানচেজ বেজোসের তুলনায় তারা তুলনামূলকভাবে কম প্রচারিত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কনি আরও সামনে এসেছেন। এপ্রিলে তিনি এনপিআরকে ৮ কোটি ডলার দান করেন, যা সরকারি সম্প্রচার খাতে সবচেয়ে বড় অনুদানের একটি। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রায় ১১০ কোটি ডলার কাটছাঁটের চাপের পর এই অনুদান আসে। এটি ছিল তার ব্যক্তিগত উপহার, বলমার গ্রুপের নয়, কারণ তিনি নিয়মিত এনপিআরের শ্রোতা। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমাদের তথ্যভিত্তিক সাংবাদিকতা প্রয়োজন, এবং স্থানীয় সাংবাদিকতাও প্রয়োজন।”
লুডভিগ ২০১৯ সালে এন্টারপ্রাইজ কমিউনিটি পার্টনার্স থেকে বলমার গ্রুপে যোগ দেন এবং এর আগে অর্থ খাতে কাজ করেছেন। নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে ধনী হওয়া ব্যক্তিদের তিনি অপেক্ষা না করে দান শুরু করার পরামর্শ দেন। “যে সমস্যাটি আপনি গভীরভাবে অনুভব করেন, সেখান থেকে শুরু করুন। যারা চ্যালেঞ্জের সবচেয়ে কাছাকাছি, তাদের থেকে শিখুন এবং শুরু করুন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আপনার পদ্ধতি পরিমার্জন করুন।” এই দর্শনের ভিত্তিতেই বলমার গ্রুপের নতুন কৌশল—অর্থকে এমন মানুষের দিকে নিয়ে যাওয়া যারা ইতিমধ্যে কাজটি জানেন।




